মালদহ: বর্ষার গোড়াতেই কালিন্দি ও গঙ্গার থাবা। আর তার জেরে তৈরি হওয়া বানভাসি পরিস্থিতিতে মালদহে প্রথম প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। ভূতনিতে জোয়ারের তোড়ে তলিয়ে গিয়ে প্রাণ হারালেন ৩২ বছর বয়সের এক তরতাজা যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে ভূতনি থানার দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বল্লীটোলা গ্রামে। মৃতের নাম দ্বিজেন মণ্ডল। পেশায় তিনি ছিলেন সাধারণ কৃষক। ভয়াবহ এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সমগ্র এলাকায়।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে তাঁদের কিছু পাটের জাঁক দেওয়া ছিল। বন্যার জল দ্রুত বাড়তে থাকায় সেই জাঁকগুলি জল থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন দ্বিজেন। কিন্তু জলের টান যে এতটা মারাত্মক হতে পারে, তা তিনি হয়তো আন্দাজ করতে পারেননি। পাটের জাঁক সরাতে গিয়েই ঘটে চরম বিপত্তি। মুহূর্তে বানের জলে তলিয়ে যান তিনি।
ঘটনাটি স্থানীয়দের চোখে পড়তেই চারদিকে হইচই পড়ে যায়। কালবিলম্ব না করে তড়িঘড়ি জলে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন গ্রামবাসী ও প্রতিবেশীরা। বেশ কিছুক্ষণ তল্লাশি চালানোর পর অবশেষে দ্বিজেনের নিথর দেহ উদ্ধার করে সোজা তাঁর বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ঘটনার পর খবর দেওয়া হয় ভূতনি থানার পুলিশ এবং স্থানীয় ব্লক প্রশাসনকে। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পরিবারের একমাত্র রুটিরুজি উপার্জনকারীকে হারিয়ে মুহূর্তে দিশাহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সদস্য দ্বিজেনের বাড়িতে রয়েছে তাঁর স্ত্রী এবং তিন নাবালক কন্যা। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়েছে। সংসার চালাবেন কীভাবে, তা ভেবেই কুল পাচ্ছেন না স্বজনরা। মৃত কৃষকের পরিবারের জন্য সরকারি অনুদান ও দ্রুত আর্থিক সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন মানিকচক বিধানসভার বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল। তিনি জানান, দক্ষিণ চণ্ডীপুরে জলে ডুবে অত্যন্ত মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। রাজ্য সরকার এবং আমরা সবাই এই কঠিন বিপদের দিনে ওই অসহায় পরিবারের পাশে রয়েছি। সমস্ত রকম প্রশাসনিক সাহায্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন