নয়াদিল্লি: মাঝআকাশে ভয়াবহ হাইজ্যাকের চেষ্টা।
ককপিটের ভেতরে কুঠার নিয়ে ভারতীয় চালকের ওপর প্রাণঘাতী আক্রমণ এবং মাত্র ৩০ সেকেন্ডের ব্যবধানে বিমান ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে আসা! ফ্লাইদুবাই বিমানের ককপিটে সংঘটিত এই শিউরে ওঠার মতো আন্তর্জাতিক ছিনতাই চক্রান্তের ঘটনায় এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় ভারত সরকার।
ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের ওপর ওমানি কো-পাইলটের ভয়াবহ হামলার তদন্তে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর (FIR) রুজু করল দেশের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। ভারতের বিচার বিভাগীয় ও কূটনৈতিক ইতিহাসের নিরিখে এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক বিমানে ঘটা ছিনতাই চক্রান্ত ও ককপিট আক্রমণের ঘটনায় আলাদা করে মামলা রুজু করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ২০১৬ সালের আন্তর্জাতিক বিমান ছিনতাই-বিরোধী আইনের ৩ নম্বর ধারা এবং কঠোর বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ)-এর নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেছে এনআইএ। তদন্তের মূল উদ্দেশ্য, মিড-এয়ার হাইজ্যাকিং বা আন্তর্জাতিক বিমান অপহরণের এই আন্তর্জাতিক চেষ্টার পেছনে কত বড় জঙ্গি চক্রান্ত বা সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক কাজ করছিল, তা গোড়া থেকে উপড়ে ফেলা।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত ৩০ সেপ্টেম্বর। ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই থেকে ইজরায়েলের রাজধানী তেল আভিভের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ (FZ 1073) বিমানটি।
বিমানটি মাঝআকাশে পৌঁছাতেই শুরু হয় আসল তাণ্ডব। অভিযোগ, উড়ন্ত বিমানের ককপিটে থাকা জরুরি আপৎকালীন কুঠার দিয়ে মূল ভারতীয় স্মিত মচ্ছরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁর ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি।
দু’জনের ধস্তাধস্তিতে মুহূর্তের মধ্যে বিমানের নিয়ন্ত্রণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং মাত্র ৩০ সেকেন্ডে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে উড়োজাহাজটি। ১৮০ জন যাত্রীর জীবন যখন সুতোয় ঝুলছিল, তখন রক্তাক্ত অবস্থাতেও অসম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে বিমানটিকে সামলে কোনোক্রমে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করান ভারতীয় পাইলট স্মিত।
এই ঘটনা যে আকাশসীমায় বা যে দেশের বিমানে ঘটেছে, ভারত তার ভৌগোলিক এখতিয়ারের বাইরে থাকলেও, আক্রান্ত প্রধান ব্যক্তি একজন ভারতীয় নাগরিক হওয়ায় দেশের বিমান ছিনতাই-বিরোধী আইন অনুযায়ী মামলা করার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে এনআইএ-র।
বর্তমানে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি নিজ নিজ স্তরে আলাদা তদন্ত চালালেও, ভারতীয় গোয়েন্দাদের এই পৃথক মামলা আন্তর্জাতিক স্তরে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। এনআইএ খতিয়ে দেখছে, নেহাতই কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি কোনো বৈশ্বিক জঙ্গি সংগঠনের ব্লু-প্রিন্ট মেনে ককপিটে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছিল।

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন