আজ গণেশ চতুর্থী। সকাল থেকেই ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে গণপতি বাপ্পার আরাধনা। ফুল, মোদক, দূর্বা দিয়ে সিদ্ধিদাতার আরাধনায় মেতেছেন ভক্তরা। তবে গণেশপুজোয় এমন একটি পাতা রয়েছে, যা অর্পণ করলে দেবতা রুষ্ট হন। সেটি হল তুলসী। তুলসী হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অত্যন্ত পবিত্র বলে বিবেচিত। কিন্তু প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশকে তুলসীপাতা দেওয়া উচিত নয়। কেন এই ব্যতিক্রম? এর পিছনে রয়েছে গণেশ ও তুলসীকে ঘিরে একটি পৌরাণিক কাহিনি।
কী হয়েছিল গণেশ ও তুলসীর?
কথিত আছে, একসময় নদীর ধারে গভীর ধ্যানে মগ্ন ছিলেন গণেশ। সেই সময় সেখান দিয়ে যাওয়ার পথে তুলসীর নজরে পড়ে গণেশের প্রতি। তাঁর রূপ ও তেজে মুগ্ধ হয়ে তুলসীর মনে গণেশকে বিয়ে করার ইচ্ছা জাগে। এরপর গণেশের ধ্যান ভেঙে তাঁকে নিজের মনের কথা জানান। কিন্তু গণেশ সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। গণেশের প্রত্যাখ্যানে ক্ষুব্ধ হয়ে তুলসী তাঁকে অভিশাপ দেন। তাঁর অভিশাপ ছিল, গণেশের ইচ্ছা না থাকলেও তাঁকে শেষ পর্যন্ত দু’বার বিবাহ করতে হবে। তুলসীর এমন কথায় গণেশও রেগে যান এবং পাল্টা অভিশাপ দেন যে, তুলসীর বিয়ে কোনও দেবতার সঙ্গে নয়, এক অসুরের সঙ্গেই হবে।
অভিশাপ দেওয়ার পর নিজের ভুল বুঝতে পারেন তুলসী। তিনি গণেশের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাঁর অনুতাপে সন্তুষ্ট হয়ে গণেশ তাঁকে ক্ষমা করেন এবং আশীর্বাদও দেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে তুলসী ভগবান বিষ্ণুর অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠবেন। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, এই ঘটনার পর থেকেই গণেশ পুজোয় তুলসীপাতা অর্পণ না করার রীতি চলে আসছে। অন্যদিকে বাপ্পার আরাধনায় দূর্বার গুরুত্ব রয়েছে। গণেশ চতুর্থী হোক কিংবা নিয়মিত গণেশপুজো, ভক্তরা শ্রদ্ধার সঙ্গে গণেশকে দূর্বা অর্পণ করেন।
বিষয় : Ganesh Chaturthi

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন