রাঁচি: আর মাত্র কমাস বাদেই দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বিশ্বমঞ্চে ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছে টিম ইন্ডিয়া। অথচ তার আগে ঘরের মাঠে রানপাহাড় গড়েও রক্ষা করা গেল না!
রাঁচির জেএসসিএ স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতে যা ঘটে গেল, তাকে ক্রিকেটের খাস বাংলায় বোলারদের সুনিশ্চিত ‘বলিদান’ বললেও কম বলা হয়। মাত্র দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে কোনও ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে উঠল পাঁচশো রানেরও বেশি।
ভারত তুলল ২৪৯ রান, আর সেই রান ক্যারিবিয়ানরা উড়িয়ে দিল হাতে দেড় ওভার রেখে। ম্যাচ শেষে কোচ গৌতম গম্ভীর ও অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার শিশির এবং পাটা পিচকে দায়ী করলেও, প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকার ঘাস-সবুজ ও গতিময় উইকেটের মহাযুদ্ধের আগে দেশের মাটিতে এমন ফ্ল্যাট ট্র্যাকে খাদের কিনারায় বোলিং আক্রমণ নিয়ে কেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে টিম ইন্ডিয়া?
এদিন টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সঞ্জু স্যামসনের ঝোড়ো ৪১ বলে ৮৪ এবং ওপেনারদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সুবাদে ৫ উইকেটে ২৪৯ রানের পাহাড় গড়ে ভারত। কিন্তু রান তাড়া করতে নেমে ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক শাই হোপ মাত্র ৪৫ বলে অপরাজিত ১০২ এবং শেরফেন রাদারফোর্ডের ৩৭ বলে ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে ১৮.৩ ওভারেই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ৫ রানে ধসে যাওয়ার পরও যেভাবে তাঁরা ম্যাচ বের করে নিয়ে গেল, তাতে ভারতীয় বোলিংয়ের কৌশল নিয়ে তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে। বিশেষ করে পাওয়ার প্লেতে অক্ষর প্যাটেলকে বোলিং করানোর সিদ্ধান্ত এবং পেসারদের অতিরিক্ত রান খরচ করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ সুনীল গাভাসকর।
ম্যাচ হারের পর সাংবাদিক বৈঠকে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কোচ গৌতম গম্ভীর। সোজাসাপ্টা ভাষায় তিনি বলেছেন, "কে চায় না ব্যাট-বলের সমতা? যদি ছক্কা-চার দেখতে চান, আমরাও দেখতে চাই। কিন্তু বোলাররাও তো আমাদের দলেরই ছেলে! ওরা কি কোনো ভিনগ্রহের বোলার? ওদেরও তো কেরিয়ার বিপদের মুখে।"
গম্ভীরের এই ক্ষোভেই স্পষ্ট, ভারতের ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজে বোলারদের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি না করে যেভাবে বারেবারে পাটা পিচ উপহার দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে দলের অন্দরেই অস্বস্তি বাড়ছে।
একই সুর শোনা গেছে অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের গলাতেও। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ২৪৯ রানও আজ কম বলে মনে হয়েছে কারণ শিশির যেভাবে প্রভাব ফেলেছে, তাতে বল গ্রিপ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
কিন্তু প্রশ্ন হল, দক্ষিণ আফ্রিকার পেস ও বাউন্স সামলানোর আগে ভারতীয় বোলাররা যদি দেশের মাটিতেই এভাবে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন, তবে বিশ্বকাপের আসল মঞ্চে ত্রাতা কে হবে? বিশ্বকাপের কঠিন চ্যালেঞ্জের আগে টিম ম্যানেজমেন্ট এই বোলারদের আস্থার জায়গাটা কীভাবে ফেরাবে, রাঁচির এই হাই-স্কোরিং পরাস্ত সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় করে তুলল।

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন