Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

নন্দীগ্রামে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই ধুন্ধুমার! মমতা নাকি ঋতব্রত, কার দখলে যাবে ঘাসফুল প্রতীক?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নন্দীগ্রামে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই ধুন্ধুমার! মমতা নাকি ঋতব্রত, কার দখলে যাবে ঘাসফুল প্রতীক?
জোড়াফুলের উত্তরাধিকার যুদ্ধ

কলকাতা: হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ পেতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়ে গেল চরম নাটকীয়তা। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর কার্যত খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্বের লড়াই এবার আছড়ে পড়ল সরাসরি নির্বাচনী ময়দানে। দলের ফান্ড কার দখলে থাকবে কিংবা দলের আসল ব্যাটন কার হাতে—তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল। কিন্তু সোমবার দুই কেন্দ্রের ভোট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কার—তা নিয়ে মমতাপন্থী ও ঋতব্রতপন্থীদের মধ্যে শুরু হয়ে গেল বেনজির সংঘাত। উভয় পক্ষই ভোটে লড়তে ময়দানে নামায় প্রশ্ন উঠেছে, ঐতিহাসিক প্রতীকটি শেষ পর্যন্ত কার ভাগে যাবে?

রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল এই তৃণমূল কংগ্রেস। যাঁর নেতৃত্বে অবসান ঘটেছিল ৩৪ বছরের বাম শাসনের, আজ ক্ষমতা হারানোর পর নিজের হাতে গড়া সেই দলেই কোণঠাসা নেত্রী। তৃণমূলের টিকিটে জেতা সিংহভাগ বিধায়ক মমতাকে ছেড়ে হাত মিলিয়েছেন ‘আসল তৃণমূল’ নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে, যিনি বর্তমানে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতিও পেয়েছেন। অন্যদিকে লোকসভার সাংসদদের বড় অংশও তৃণমূল ভেঙে এনডিএ-র সঙ্গে বোঝাপড়া সেরে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে বিধায়কদের শক্তিতে বলীয়ান ঋতব্রত শিবির এখন সম্পূর্ণভাবে জোড়াফুল প্রতীক ও দলের অধিকার নিজেদের নামে ছিনিয়ে নিতে মরিয়া।

ভোটের ময়দানে নিজেদের দাবি নিয়ে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে নেমেছে দুই শিবিরই। ‘আসল তৃণমূল’-এর বিধায়ক সন্দীপন সাহার দাবি, তাঁরা সমস্ত বৈধ নথিপত্র কমিশনে জমা দিয়েছেন এবং তাঁরা নিশ্চিত যে জোড়াফুল প্রতীক তাঁদেরই বরাদ্দ হবে; সেই প্রতীকে লড়াইয়ের জন্য প্রার্থী বাছাই পর্বও শুরু হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা নেত্রীর পক্ষে দাঁড়িয়ে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের স্পষ্ট জবাব, এই দল মমতার সৃষ্টি এবং তাঁর নেতৃত্বেই দল তিনবার ক্ষমতায় এসেছে, তাই এই প্রতীকের ওপর একমাত্র তাঁরই অধিকার রয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী দল বিভক্ত হলে মূল নাম ও সংরক্ষিত প্রতীক বরাদ্দ করার চূড়ান্ত এক্তিয়ার নির্বাচন কমিশনের হাতেই। ফলে নন্দীগ্রামের মাটিতে জোড়াফুলের পতাকা নিয়ে শেষ পর্যন্ত কে প্রচারে নামবেন, তা নির্ধারণে এখন কমিশনের কোর্টেই বল।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : BengalPolitics ElectionCommission HiddenStoriesNews MamataBanerjee RitabrataBanerjee NandigramBypoll TMCFactionFight

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নন্দীগ্রামে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই ধুন্ধুমার! মমতা নাকি ঋতব্রত, কার দখলে যাবে ঘাসফুল প্রতীক?

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কলকাতা: হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ পেতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়ে গেল চরম নাটকীয়তা। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর কার্যত খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্বের লড়াই এবার আছড়ে পড়ল সরাসরি নির্বাচনী ময়দানে। দলের ফান্ড কার দখলে থাকবে কিংবা দলের আসল ব্যাটন কার হাতে—তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল। কিন্তু সোমবার দুই কেন্দ্রের ভোট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কার—তা নিয়ে মমতাপন্থী ও ঋতব্রতপন্থীদের মধ্যে শুরু হয়ে গেল বেনজির সংঘাত। উভয় পক্ষই ভোটে লড়তে ময়দানে নামায় প্রশ্ন উঠেছে, ঐতিহাসিক প্রতীকটি শেষ পর্যন্ত কার ভাগে যাবে?রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল এই তৃণমূল কংগ্রেস। যাঁর নেতৃত্বে অবসান ঘটেছিল ৩৪ বছরের বাম শাসনের, আজ ক্ষমতা হারানোর পর নিজের হাতে গড়া সেই দলেই কোণঠাসা নেত্রী। তৃণমূলের টিকিটে জেতা সিংহভাগ বিধায়ক মমতাকে ছেড়ে হাত মিলিয়েছেন ‘আসল তৃণমূল’ নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে, যিনি বর্তমানে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতিও পেয়েছেন। অন্যদিকে লোকসভার সাংসদদের বড় অংশও তৃণমূল ভেঙে এনডিএ-র সঙ্গে বোঝাপড়া সেরে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে বিধায়কদের শক্তিতে বলীয়ান ঋতব্রত শিবির এখন সম্পূর্ণভাবে জোড়াফুল প্রতীক ও দলের অধিকার নিজেদের নামে ছিনিয়ে নিতে মরিয়া।ভোটের ময়দানে নিজেদের দাবি নিয়ে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে নেমেছে দুই শিবিরই। ‘আসল তৃণমূল’-এর বিধায়ক সন্দীপন সাহার দাবি, তাঁরা সমস্ত বৈধ নথিপত্র কমিশনে জমা দিয়েছেন এবং তাঁরা নিশ্চিত যে জোড়াফুল প্রতীক তাঁদেরই বরাদ্দ হবে; সেই প্রতীকে লড়াইয়ের জন্য প্রার্থী বাছাই পর্বও শুরু হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা নেত্রীর পক্ষে দাঁড়িয়ে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের স্পষ্ট জবাব, এই দল মমতার সৃষ্টি এবং তাঁর নেতৃত্বেই দল তিনবার ক্ষমতায় এসেছে, তাই এই প্রতীকের ওপর একমাত্র তাঁরই অধিকার রয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী দল বিভক্ত হলে মূল নাম ও সংরক্ষিত প্রতীক বরাদ্দ করার চূড়ান্ত এক্তিয়ার নির্বাচন কমিশনের হাতেই। ফলে নন্দীগ্রামের মাটিতে জোড়াফুলের পতাকা নিয়ে শেষ পর্যন্ত কে প্রচারে নামবেন, তা নির্ধারণে এখন কমিশনের কোর্টেই বল।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত