কলকাতা: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক আগে বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দে আছড়ে পড়ল এক বিশাল জল্পনার ঢেউ। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঠিক আগের দিন, শুক্রবার সকালে হঠাৎ করেই পিডব্লিউডি টেন্টে হাজির হন 'মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস'-এর নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। সেখানে গিয়ে তিনি মুখোমুখি সাক্ষাৎ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে আয়োজিত এই বৈঠকের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। যদিও তাঁদের মধ্যে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে দুই পক্ষই মুখ খোলেনি, তবুও উপনির্বাচনের মুখে এই হাইভোল্টেজ সাক্ষাৎকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। শনিবারই মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। তার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে কালীঘাটপন্থী শিবিরের প্রার্থী যেভাবে সোজা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে গেলেন, তা নিয়ে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি গোটা রাজ্য রাজনীতিতে জলঘোলা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম আসনটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সব দলের কাছেই মর্যাদার লড়াই। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম—উভয় কেন্দ্র থেকেই জয়লাভ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে রাজনীতিতে একদম নতুন মুখ নন। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি নন্দীগ্রাম ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। তবে পেশাগত জীবনে তিনি ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেট বিতর্ক এবং চাকরি বাতিলের তালিকায় নাম থাকার কারণে সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তিনি চাকরি ফিরে পান। বর্তমানে পরিবার সূত্রে তমলুকের বাসিন্দা হলেও নন্দীগ্রামের হেভিওয়েট নেতা পবিত্র করের বুথেই তাঁর আদি বাড়ি। নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর কেন্দ্রে ঘাসফুল শিবিরের জমি পুনর্দখলের লড়াইয়ে যখন সঞ্চিতাকে অস্ত্র করেছিল কালীঘাট, ঠিক তখনই শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর এই আকস্মিক সাক্ষাৎ নির্বাচনের ফল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন চিহ্নের সৃষ্টি করল।

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন