কলকাতা: পাঁচ মাসেই ঘুরল রাজনীতির চাকা!
যে স্লোগান ঘিরে বাংলায় ক্ষমতার অলিন্দ তোলপাড় হয়েছিল, উপনির্বাচনে সেই একই অভিযোগ আছড়ে পড়ল নতুন শাসকদলের বিরুদ্ধে। ‘ভোট লুঠ ও গণতন্ত্র হত্যা’! মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজ্যের দুই হেভিওয়েট কেন্দ্র মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে ছিল। একদিকে রেজিনগরে বিধায়ক হুমায়ূন কবীরের নাটকীয় গ্রেফতার ও কংগ্রেস-পুলিশ বচসা, অন্যদিকে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর টোটো চেপে বুথে গিয়ে ভোট প্রদান, সব মিলিয়ে অক্টোবরের সকালে রাজ্য রাজনীতি একেবারে গরম।
রেজিনগরে পরিবার নিয়ে ভোট দিতে গিয়েছিলেন নওদার বিধায়ক তথা এজেইউপি প্রধান হুমায়ূন কবীর। কিন্তু বুথ চত্বরে ঘুরতেই তাঁকে আটক করে গ্যারেজ করে পুলিশ। পুলিশের বিরুদ্ধে সোজা 'বিজেপির দালাল' বলে তোপ দাগেন হুমায়ূন।
অন্যদিকে, রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বচসা ঘিরেও চাঞ্চল্য ছড়ায়; বাহিনীর এক জওয়ানকে সরাসরি রাহুল গান্ধীর 'এজেন্ট' বলে দাগিয়ে দেন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব, আইসির সঙ্গে অধীর চৌধুরীর তর্কাতর্কি ও ধরনা কেন্দ্রটির রাজনৈতিক উত্তাপ এক ধাক্কায় আরও বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে নন্দীগ্রামেও নাটকীয়তার অভাব ছিল না। সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়ে সকালেই ময়দানে নামেন কংগ্রেস সমর্থিত তৃণমূল প্রার্থী মিলন প্রধান। বাম প্রার্থীর এজেন্টকে মারধরের অভিযোগে তোলপাড় হয় এলাকা। তবে সব নজর ছিল নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দিকে। সমস্ত ভিআইপি প্রোটোকল সরিয়ে সাধারণের মতো টোটোয় চেপে ভোট দিতে যান তিনি।
ভোট দিয়ে বেরিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরেই জানান, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর, দুটি আসনেই জিতছে বিজেপি। হুমায়ূনের গ্রেপ্তারিতে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, "আইন সবার জন্য সমান, ২০০ মিটারের মধ্যে নিয়ম ভাঙায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।"
রেজিনগরে হুমায়ূন গ্রেপ্তার হওয়ায় কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে গেরুয়া শিবির, কারণ এই কেন্দ্রে অঘটন ঘটাতে পারেন হুমায়ূনই। শুক্রবার ইভিএম খুললেই স্পষ্ট হবে— রেজিনগর কি রইল হুমায়ূনের কব্জায় নাকি নন্দীগ্রামের সঙ্গে সঙ্গে সেখানেও ফুটবে পদ্ম!

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন