কাঠমান্ডু: নেপালের কমিউনিস্ট নেতা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি গদিতে বসেই ভারতকে পাশ কাটিয়ে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য চিনকে বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই কূটনৈতিক ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নতুন দৃষ্টান্ত গড়তে চলেছেন নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ (বালেন শাহ)। আগামী নভেম্বর মাসে তিন দিনের সরকারি সফরে ভারতে আসতে চলেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটাই হতে চলেছে তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। নেপালের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দিল্লি সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বালেন। চিনের 'ফাঁদ' এড়িয়ে নয়াদিল্লিকেই যে কাঠমান্ডু অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তা এই সফরের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে গেল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞরা।
কূটনৈতিক প্রথা ভেঙে গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ভারত সফর এড়িয়ে সরাসরি বেইজিং উড়ে গিয়েছিলেন অলি। তিনি দাবি করেছিলেন, নয়াদিল্লি নাকি তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানায়নি। কিন্তু ক্ষমতা দখলের আট মাসের মাথায় সেই ভুল পথে হাঁটলেন না নবীন প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ। যদিও গত সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় যোগ দিতে তিনি আমেরিকায় গিয়েছিলেন, কিন্তু কোনও একক দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে ভারতকেই তিনি তাঁর প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নিলেন।
'দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট'-এর খবর অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের তৃতীয় বা চতুর্থ সপ্তাহে দিল্লিতে নামবেন বালেন শাহ। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি ভারতের শীর্ষ মন্ত্রীদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি। এই সফরের মূল লক্ষ্য সীমান্ত বিরোধ, পরিকাঠামো নির্মাণ এবং নদী উপত্যকার বন্যা-পরবর্তী পুনর্গঠন। দুই দেশের মধ্যে যে সমস্ত যৌথ প্রকল্পের উদ্বোধন বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে:
পানৌতিতে নেপাল পুলিশ একাডেমি: ভারতের আর্থিক সহায়তায় নির্মিত এই আধুনিক পুলিশ অ্যাকাডেমির শুভ উদ্বোধন হতে পারে।
সোনৌলি সীমান্তের ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট: উত্তরপ্রদেশ সীমান্তসংলগ্ন ভৈরহওয়ার সমন্বিত চেকপোস্ট এবং দারচুলা জেলায় মহাকালী নদীর উপর নির্মিত একাধিক সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।
নয়া বিদ্যুৎ ও পাইপলাইন প্রকল্প: পাশাপাশি দোধারা চাঁদনি ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট, লোয়ার অরুণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং শিলিগুড়ি-ঝাপা পেট্রোলিয়াম পাইপলাইনের নির্মাণকাজ যৌথভাবে শুরু করতে পারেন মোদী ও বালেন শাহ।
গত অগস্ট মাসে নেপালের ভয়াবহ বন্যার সময় ভারতের দ্রুত ত্রাণ পাঠানো ও উদ্ধারকাজে সাহায্যের পর থেকেই কূটনৈতিক বরফ গলতে শুরু করে। এর আগে গত জুন মাসে নেপালের শাসক দল জাতীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) সভাপতি রবি লামিছানে নয়াদিল্লি সফর করে বিকেজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। অলির বেজিং-ঘেঁষা নীতির থেকে সরে এসে বালেন শাহের এই ভারতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন