নয়াদিল্লি: দিল্লির ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের কূটনৈতিক মঞ্চ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলতে থাকা ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যস্থতার প্রস্তাবকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানাল ক্রেমলিন। ওয়াশিংটনের সমস্ত কূটনৈতিক উদ্যোগের ব্যর্থতার মাঝেই দিল্লির এই উন্নয়ন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
ট্রাম্পের ব্যর্থতা এবং রাশিয়ার লালগালিচা
গত কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে ম্যারাথন কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। অতি সম্প্রতি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার মস্কো ও কিয়েভ সফর করেন। এমনকি খোদ ট্রাম্প ফোন করে পুতিনকে যুদ্ধ দ্রুত থামানোর আবেদন জানান, যাতে আমেরিকা ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা যায়। কিন্তু ওয়াশিংটনের সেই চেষ্টা এখনও কোনো বাস্তব সাফল্য আনেনি।
ঠিক এই পরিস্থিতিতে দিল্লির ভারত মণ্ডপমে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদী, শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের হাসিমুখের ‘ত্রিমূর্তি’ ছবি এবং মধ্যস্থতার বার্তা ওয়াশিংটনকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মোদী ও জিনপিং ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় সহায়তা করার যে প্রস্তাব দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন তাকে সানন্দে ‘স্বাগত’ জানিয়েছেন। আগামী ১৮-২০ সেপ্টেম্বর রাশিয়ায় সংসদীয় নির্বাচন। তার ঠিক আগে ক্রেমলিনের এই বার্তা অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কেন তাৎপর্যপূর্ণ ভারতের ভূমিকা?
আমেরিকার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গেও ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে ভারত। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে ছাড়ে অপরিশোধিত তেল আমদানির পাশাপাশি মস্কো ও কিয়েভ—উভয় পক্ষের সঙ্গেই সমান দূরত্ব বজায় রেখে কথা বলার বিরল ক্ষমতা রয়েছে নয়াদিল্লির। থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘ইন্ডিক রিসার্চার্স ফোরাম’-এর ডিরেক্টর শ্রীনিবাসন বালকৃষ্ণনের মতে, "একই সঙ্গে মস্কো, তেহরান এবং পশ্চিমের দেশগুলির সঙ্গে কথা বলার বিরল ক্ষমতা রয়েছে ভারতের। এই কূটনৈতিক সংযোগ সম্পূর্ণ বাস্তব।"
‘যুদ্ধের যুগ নয়’, মোদীর কড়া বার্তা
২০২২ সালে সমারকন্দে পুতিনকে প্রকাশ্যে মোদী বলেছিলেন, "আজকের যুগ যুদ্ধের নয়।" সম্প্রতি বিশকেকে এসসিও (SCO) সম্মেলনের ফাঁকেও পুতিনকে "অবিরাম যুদ্ধ থামিয়ে শান্তির পথে হাঁটার" জোরালো আহ্বান জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দিল্লিতেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মোদী পুতিনকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, "সংকট সমাধানের একমাত্র পথ আলোচনা ও কূটনীতি। ভারত যে কোনো শান্তি উদ্যোগে সহায়তা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।" ক্রেমলিনও এর আগে স্বীকার করেছে যে, ইউক্রেন ইস্যুতে ভারতের শান্তিপ্রিয় অবস্থান রাশিয়ার ভাবনার সঙ্গেই ব্যাপকভাবে মিলে যায়।
সব মিলিয়ে, আগামী ডিসেম্বরে মিয়ামিতে আয়োজিত হতে চলা জি-২০ (G20) সম্মেলনে পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সম্ভাব্য প্রথম মুখোমুখি বৈঠকের আগেই নয়াদিল্লির জমি তৈরি করে দেওয়া এই কূটনৈতিক চাল ট্রাম্পের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বহুলাংশে বাড়িয়ে দিল।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন