কলকাতা: শারদোৎসবের ঠিক মুখে আইনি লড়াইয়ে বড়সড় স্বস্তি পেলেন রাজারহাট-নিউটাউনের তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষ তাঁর অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে। ফলে টানা চার মাস জেলের অন্ধকার কুঠুরিতে থাকার পর এবার পুজোর আগেই জেলমুক্তির সম্ভাবনা জোরালো হলো তাঁর। তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার শর্তেই এই জামিন দেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে খবর।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ২০১৮ সালের একটি তোলাবাজির অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৮ জুন রাতে রাজারহাটের বাসভবন থেকে সব্যসাচীকে গ্রেফতার করেছিল বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। অভিযোগ ছিল, এক স্থানীয় ব্যবসায়ীর কাছে তাঁর হয়ে লোক পাঠিয়ে কোটি টাকা তোলা দাবি করা হয়। গ্রেফতারের মাত্র ৫৭ দিনের মাথায় তাঁর বিরুদ্ধে বারাসত আদালতে ১ হাজার ৭৩০ পাতার দীর্ঘ চার্জশিট পেশ করেছিল রাজ্য পুলিশ। পরে এই মামলার তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাও যুক্ত হয়।
তদন্তে নেমে সব্যসাচী ও তাঁর সহযোগীদের প্রায় ১৯টি ডেরায় একযোগে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। সেই অভিযানে প্রকাশ্যে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সব্যসাচী ঘনিষ্ঠ নদিয়া জেলা পরিষদের শাসকদলীয় সদস্য টিনা ভৌমিক সাহার করিমপুরের বাড়ি থেকে ট্রাঙ্ক খুলে উদ্ধার করা হয় প্রায় ৩ কেজি ওজনের খাঁটি সোনার গয়না, বাজারে যার আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকারও বেশি।
এর পর বেআইনি অর্থ লেনদেনের ধারা যুক্ত করে মাঠে নামে ইডি। তদন্তকারীদের সাম্প্রতিক অভিযানে উদ্ধার হয় সাড়ে ৪০ লক্ষ টাকা নগদ, বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা এবং ফ্রিজ করা একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ১৪ কোটি টাকা।
এর আগে এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত বিদ্যুৎ গঙ্গোপাধ্যায় অন্তর্বর্তী জামিন পেলেও বারবার খারিজ হয়ে গিয়েছিল সব্যসাচীর আবেদন। অবশেষে দীর্ঘ চার মাস কারাবাসের পর উৎসবের প্রাক্কালে আদালতের এই রায়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন প্রাক্তন বিধায়কের অনুগামীরা।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন