বাগুইআটি: চিকিৎসার পেছনে বিপুল খরচ, সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ— এই দুইয়ের জেরেই নিজের শয্যাশায়ী ভাইকে নিংশঙ্কোচ চিত্তে থেঁতলে খুন করল নিজেরই দাদা! বাগুইআটির রঘুনাথপুরের বলরাম রাজবংশী হত্যাকাণ্ডে এমনই গা শিউরে ওঠা ও হাড়হিম করা তথ্য প্রকাশ্যে আনল পুলিশ। ঘটনার নাটক সাজিয়েও শেষরক্ষা হলো না; দীর্ঘ টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর ভাই খুনের অভিযোগে দাদা কৃষ্ণ রাজবংশীকে গ্রেপ্তার করেছে বাগুইআটি থানার পুলিশ।
রবিবার ভরদুপুরে বাগুইআটির বাড়িতে ঘরে ঢুকে বিছানার ওপর থেকে উদ্ধার হয় বলরামের রক্তাক্ত দেহ। কপালে ছিল একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন। প্রাথমিক তদন্তে ও পরিবারের বয়ানে মনে করা হয়েছিল, ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে চরম লুটপাট চালাতে এসেই দুষ্কৃতীরা ওই অসুস্থ যুবককে খুন করে চম্পট দিয়েছে। কারণ, ঘরবাড়ি ছিল লন্ডভন্ড, আলমারির সিন্দুক খোলা এবং পরিবার দাবি করেছিল প্রায় লাখ দুয়েক টাকা ও সোনাদানা গায়েব হয়েছে। এমনকি পরিবারের পোষ্য কুকুরটিকে পাশের ঘরে আটকে রাখা এবং অপরাধ সংঘটিত করে বাইরে থেকে দরজায় নিখুঁত তালা ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যাওয়ার কৌশল দেখে তদন্তকারীদের সন্দেহ ঘনীভূত হতে শুরু করে।
পুলিশ তদন্তে নেমে বুঝতে পারে, যাঁর কাছে বাড়ির চাবি ছিল বা যিনি পরিবারের খুঁটিনাটি একদম হাতের তালুর মতো চেনেন, এই কাণ্ড তিনিই ঘটিয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে আসে। রবিবারের সকালে মা-বাবা কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যাওয়ার পরই সুযোগ বোঝে কৃষ্ণ। সারমেয়টিকে অন্য ঘরে আটকে রেখে ফাঁকা বাড়িতে নির্মমভাবে আঘাত করে শয্যাশায়ী ভাই বলরামকে পিটিয়ে হত্যা করে সে। এরপর ডাকাতির নাটক সাজাতে আলমারি তছনছ করে বাইরে থেকে গেটে তালা এঁটে বেরিয়ে যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশি জেরার মুখে শেষমেশ নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে নেয় কৃষ্ণ। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা অসুস্থ ভাইয়ের চিকিৎসার বিপুল খরচ টানতে টানতে পরিবার নাজেহাল হয়ে পড়েছিল, যার থেকেই এই চরম ক্ষোভ ও পরিকল্পনা। পাশাপাশি সম্পত্তিগত বিবাদও অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। ধৃত কৃষ্ণ রাজবংশীকে সোমবার বারাসাত আদালতে পেশ করা হচ্ছে।

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন