কলকাতা: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর কলকাতায় এক বিশাল বিজয় মিছিলের আয়োজন করে ভারতীয় জনতা পার্টি। এই বিজয় মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী সহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব। মিছিলের শেষে আয়োজিত এক জনসভা থেকে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা বিতর্কিত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু। সম্প্রতি রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচারের সময় হুমায়ুনের করা সেই বিতর্কিত ‘ভাগীরথী’ মন্তব্যকে হাতিয়ার করে কটাক্ষের সুর চড়ান তিনি। শুভেন্দু বিদ্রূপের সুরে বলেন, যাঁরা হিন্দুদের ভাগীরথীর জলে ভাসিয়ে দেওয়ার হুঙ্কার দিয়েছিলেন, আজ তাঁরা নিজেই রাজনৈতিক ময়দানে নাকের জলে চোখের জলে ভাসছেন।
চলতি ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে নওদা এবং রেজিনগর—দুটি কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরবর্তীতে নিয়ম মেনে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন তিনি এবং ওই উপনির্বাচনে নিজের ছেলেকে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী করেন। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারের সময় রেজিনগরে দাঁড়িয়ে তিনি যে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, হিন্দুদের কেটে ভাগীরথীর জলে ভাসিয়ে দেওয়া হবে। অথচ রেজিনগরে প্রায় সত্তর শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার থাকা সত্ত্বেও সেই উপনির্বাচনে শোচনীয়ভাবে হেরে যায় হুমায়ুনের দল। ভোটের ফলাফল প্রকাশের আগেই নিজের পরাজয় নিশ্চিত বুঝে রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা করে জনসমক্ষেই কান্নায় ভেঙে পড়েন হুমায়ুন। কলকাতার সভা থেকে সেই প্রসঙ্গ টেনেই তাঁকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু।
শুভেন্দু অধিকারী আরও দাবি করেন যে, বিজেপি সংখ্যালঘুদের ভোট পায় না—রাজনৈতিক মহলের এই পুরনো ‘মিথ’ বা ধারণাকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে রেজিনগরের সাধারণ মানুষ। তাঁর মতে, সংখ্যালঘু সমাজ এখন বুঝতে পেরেছে যে তাঁদের ভোট ছাড়াই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জয়রথ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। তাই সমাজের মূলস্রোতে নিজেদের যুক্ত রাখতে এবং উন্নয়নের শরিক হতে সংখ্যালঘুরাও এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজেপিকে ভোট দিচ্ছেন। রেজিনগরে দলের প্রার্থী শাখারভ সরকার পঁচাত্তর হাজারেররও বেশি ভোটে জয়লাভ করায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।
এদিনের সভা থেকেই আগামী হাওড়া ও কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে বিজেপিকে জয়ী করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে জোরালো আবেদন জানান শুভেন্দু। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন যে, সাধারণ মানুষ অতীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকে রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার এনেছেন, এবার মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। কলকাতার রাজপথে দাঁড়িয়ে দুহাত তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, আমজনতা হাওড়া ও কলকাতা কর্পোরেশন বিজেপিকে উপহার দেবেন তো? তাঁর এই হুঙ্কার ও কটাক্ষে এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন