কলকাতা: তিলোত্তমার বুকে ফের রহস্যমৃত্যু! এন্টালি এলাকার রাস্তায় পার্ক করে রাখা একটি অ্যাপ ক্যাবের ভেতর থেকে উদ্ধার হলো চালকের নিঃসংকোচ রক্তাক্ত দেহ। মৃতের মুখে রক্তের সুস্পষ্ট দাগ এবং পা দুটি দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা অবস্থায় ছিল বলে জানা গেছে। বুধবার সকালে এই হাড়হিম করা ঘটনা চাউর হতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। প্রাথমিক পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ দেখে পুলিশের অনুমান, ওই ব্যক্তিকে শ্বাসরোধ করে বা আঘাত করে খুন করা হয়ে থাকতে পারে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে এন্টালির নির্জন রাস্তায় একটি অ্যাপ ক্যাবকে দীর্ঘক্ষণ একইভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা গাড়ির কাছে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না মেলায় এবং দরজার কাচ বন্ধ থাকায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে তড়িঘড়ি এন্টালি থানায় খবর দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়েই অকুস্থলে পৌঁছায় এন্টালি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু গাড়ির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় শেষমেশ এক স্থানীয় মিস্ত্রিকে ডেকে এনে লক ভাঙা হয়। আর তার পরেই ক্যাবের ভেতরে নজরে আসে ভয়ঙ্কর সেই দৃশ্য।
গাড়ির পেছনের সিটে পড়েছিল চালকের নিথর দেহ। পরীক্ষা করে দেখা যায়, ৪৫ বছর বয়সী ওই চালকের নাম ভগবানপ্রসাদ গুপ্ত। তাঁর মুখে তাজা রক্তের চিহ্ন এবং দুই পা শক্ত দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। পুলিশ দ্রুত দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই তদন্তে নেমেছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ ও হোমিসাইড শাখার বিশেষ আধিকারিকেরা। দুষ্কৃতীরা কোনো গভীর উদ্দেশ্য নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলের আশপাশের সবকটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ খতিয়ে দেখছে, মঙ্গলবার রাতে ভগবানপ্রসাদ গুপ্ত শেষ কার সঙ্গে দেখা করেছিলেন বা তাঁর গাড়িতে শেষ যাত্রী হিসেবে কারা উঠেছিলেন। কোনো পুরোনো শত্রুতার জেরে এই খুন, নাকি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতীরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে—তা এখনও স্পষ্ট নয়। মৃতের পরিবার এবং সহকর্মীদের খবর দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময় জানা সম্ভব হবে বলে আশ্বস্ত করেছে পুলিশ।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন