Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Vishwakarma Puja: ভাদ্রের রাতে রান্না, আশ্বিনে অরন্ধন! বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে কেন জড়িয়ে এই অদ্ভুত রীতি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Vishwakarma Puja: ভাদ্রের রাতে রান্না, আশ্বিনে অরন্ধন! বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে কেন জড়িয়ে এই অদ্ভুত রীতি?
গ্রাফিক্স: হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিশ্বকর্মা পুজো মানেই কারখানা, যন্ত্রপাতি আর দেবশিল্পীর আরাধনা। কিন্তু বাঙালির ঘরে এই দিনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও একটি পুরনো রীতি। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন নানা পদ রান্না করে রাখা হয়। সেই খাবারই খাওয়া হয় পরের দিন। জ্বলে না উনুন, হেঁসেলে আগুন ধরানো হয় না। এই পরিচিত রীতিই রান্নাপুজো এবং অরন্ধন নামে পরিচিত।

কিন্তু বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে রান্নাপুজোর যোগটা ঠিক কোথায়? এই আচারটির মূল যোগ দেবী মনসার সঙ্গে। বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে একই সময়ে এই রীতি পালিত হয় মূলত পঞ্জিকার হিসাবেই।

ভাদ্রের শেষ রাতে কেন রান্না হয় ১৯ পদ?

ভাদ্র সংক্রান্তির আগের রাতে রান্নাপুজোর আয়োজন করা হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, প্রায় ১৯ রকম পদ রান্না করে রাখা হয়। আর আশ্বিনের প্রথম দিনে সেই খাবার খাওয়া হয়। রান্না শুরু করার আগে উনুনের চারপাশ ভালো করে পরিষ্কার করে নেওয়া হয়। তারপর গোবর-মাটি দিয়ে নিকিয়ে নেওয়ার রীতিও ছিল। রান্না শেষ হলে ফের পরিষ্কার করা হয় উনুনের চারপাশ। চালবাটা দিয়ে আঁকা হয় আলপনা। এরপর বসানো হয় মনসার ঘট।

এই দিনের হেঁসেলে থাকে একাধিক পদ। পান্তা ভাত, মুগ বা মুসুর ডাল, চালতার টক, নানা ধরণের শাক, ইলিশ মাছের নানা পদ এবং অন্তত সাত রকমের ভাজাভুজি (যার মধ্যে নারকেল ও কুমড়ো ভাজা অন্যতম)। ভাদ্র সংক্রান্তির দিনে উনুনের পুজো সমাপন করে দেবী মনসাকে এই সমস্ত অন্ন ও ব্যঞ্জন নিবেদন করা হয়। সাধারণত বাড়ির মহিলারাই এই পুজো করেন।


বিশ্বকর্মার পুজোর সঙ্গে যোগটা কোথায়?

কেতকাদাস ক্ষেমানন্দের ‘মনসার ভাসান’-এ পান্তা অন্ন দিয়ে দেবীকে পুজো করার উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে রান্নাপুজো একই সময়ে হওয়ার কারণ মূলত কন্যা সংক্রান্তি। সূর্য সিংহ রাশি ছেড়ে কন্যা রাশিতে প্রবেশ করার সময় ভাদ্র মাসের শেষ দিন পড়ে। এই সময়েই বিশ্বকর্মা পুজো পালিত হয়। রান্নাপুজোর সময়ও একই। ফলে দুই পুজো একই দিনে এসে মিশেছে। 

রান্নাঘরেই কেন মনসার পুজো?

এর পিছনে ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি বাংলার পুরনো জীবনযাত্রার ছাপও রয়েছে বলে মনে করা হয়। ভাদ্র মাসে বর্ষার দাপটে গ্রামবাংলার মাঠঘাট জলমগ্ন হয়ে যেত। শুকনো ও উঁচু জায়গার খোঁজে সাপ তখন মানুষের বসতবাড়ির আশপাশে চলে আসত। মাটির উনুনের পাশে থাকত শুকনো কাঠ ও জ্বালানির স্তূপ। সাপের লুকিয়ে থাকার জন্য এমন জায়গা ছিল আদর্শ। তাই রান্নার আগে ও পরে উনুনের চারপাশ পরিষ্কার রাখার রীতির মধ্যে নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখা যায়। 

উনুনের পুজোর সঙ্গে সাপের সম্পর্ক কী?

উনুন থেকেই তৈরি হয় অন্ন। আর অন্নের মূল উৎস শস্য। কৃষিনির্ভর বাংলায় শস্য রক্ষার ক্ষেত্রেও সাপের ভূমিকা ছিল। কীটনাশকের ব্যবহার প্রচলিত হওয়ার আগে জমির শস্য নষ্ট করা ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখত সাপ। সেই কারণেই লোকবিশ্বাসে দেবী মনসার সঙ্গে শস্যরক্ষার যোগ তৈরি হয়েছে। 

পান্তা আর ১৯ পদের নেপথ্যে কী?

আগের রাতের ভাতই পরের দিন পান্তা হিসেবে খাওয়া হয়। কৃষিপ্রধান বাংলায় ভাত ছিল মানুষের প্রধান খাদ্য। তাই দেবীর উদ্দেশ্যে পান্তা অন্ন নিবেদনের রীতির মধ্যেও পুরনো খাদ্যাভ্যাসের ছাপ রয়েছে। আর ১৯ রকম পদের মধ্যে শাকসব্জির আধিক্যও লক্ষ করার মতো। কচুশাক, চালতা, চালকুমড়ো, নারকেল-সহ নানা উপকরণ এই রান্নায় জায়গা পায়। 

জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয় প্রসাদ

পুজো শেষ হওয়ার পর দেবীর প্রসাদের কিছুটা একটি পাতায় করে পুকুর বা জলাশয়ে ভাসিয়ে দেওয়ার রীতি রয়েছে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, সেই প্রসাদ প্রয়াত পূর্বপুরুষেরা গ্রহণ করেন। ভাদ্র অমাবস্যার পর থেকেই পিতৃপুরুষকে স্মরণ করার নানা আচার শুরু হয়, যা চলে মহালয়া পর্যন্ত। 

বিষয় : Vishwakarma Puja

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Vishwakarma Puja: ভাদ্রের রাতে রান্না, আশ্বিনে অরন্ধন! বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে কেন জড়িয়ে এই অদ্ভুত রীতি?

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
বিশ্বকর্মা পুজো মানেই কারখানা, যন্ত্রপাতি আর দেবশিল্পীর আরাধনা। কিন্তু বাঙালির ঘরে এই দিনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও একটি পুরনো রীতি। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন নানা পদ রান্না করে রাখা হয়। সেই খাবারই খাওয়া হয় পরের দিন। জ্বলে না উনুন, হেঁসেলে আগুন ধরানো হয় না। এই পরিচিত রীতিই রান্নাপুজো এবং অরন্ধন নামে পরিচিত।কিন্তু বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে রান্নাপুজোর যোগটা ঠিক কোথায়? এই আচারটির মূল যোগ দেবী মনসার সঙ্গে। বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে একই সময়ে এই রীতি পালিত হয় মূলত পঞ্জিকার হিসাবেই।ভাদ্রের শেষ রাতে কেন রান্না হয় ১৯ পদ?ভাদ্র সংক্রান্তির আগের রাতে রান্নাপুজোর আয়োজন করা হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, প্রায় ১৯ রকম পদ রান্না করে রাখা হয়। আর আশ্বিনের প্রথম দিনে সেই খাবার খাওয়া হয়। রান্না শুরু করার আগে উনুনের চারপাশ ভালো করে পরিষ্কার করে নেওয়া হয়। তারপর গোবর-মাটি দিয়ে নিকিয়ে নেওয়ার রীতিও ছিল। রান্না শেষ হলে ফের পরিষ্কার করা হয় উনুনের চারপাশ। চালবাটা দিয়ে আঁকা হয় আলপনা। এরপর বসানো হয় মনসার ঘট।এই দিনের হেঁসেলে থাকে একাধিক পদ। পান্তা ভাত, মুগ বা মুসুর ডাল, চালতার টক, নানা ধরণের শাক, ইলিশ মাছের নানা পদ এবং অন্তত সাত রকমের ভাজাভুজি (যার মধ্যে নারকেল ও কুমড়ো ভাজা অন্যতম)। ভাদ্র সংক্রান্তির দিনে উনুনের পুজো সমাপন করে দেবী মনসাকে এই সমস্ত অন্ন ও ব্যঞ্জন নিবেদন করা হয়। সাধারণত বাড়ির মহিলারাই এই পুজো করেন।বিশ্বকর্মার পুজোর সঙ্গে যোগটা কোথায়?কেতকাদাস ক্ষেমানন্দের ‘মনসার ভাসান’-এ পান্তা অন্ন দিয়ে দেবীকে পুজো করার উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে রান্নাপুজো একই সময়ে হওয়ার কারণ মূলত কন্যা সংক্রান্তি। সূর্য সিংহ রাশি ছেড়ে কন্যা রাশিতে প্রবেশ করার সময় ভাদ্র মাসের শেষ দিন পড়ে। এই সময়েই বিশ্বকর্মা পুজো পালিত হয়। রান্নাপুজোর সময়ও একই। ফলে দুই পুজো একই দিনে এসে মিশেছে। রান্নাঘরেই কেন মনসার পুজো?এর পিছনে ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি বাংলার পুরনো জীবনযাত্রার ছাপও রয়েছে বলে মনে করা হয়। ভাদ্র মাসে বর্ষার দাপটে গ্রামবাংলার মাঠঘাট জলমগ্ন হয়ে যেত। শুকনো ও উঁচু জায়গার খোঁজে সাপ তখন মানুষের বসতবাড়ির আশপাশে চলে আসত। মাটির উনুনের পাশে থাকত শুকনো কাঠ ও জ্বালানির স্তূপ। সাপের লুকিয়ে থাকার জন্য এমন জায়গা ছিল আদর্শ। তাই রান্নার আগে ও পরে উনুনের চারপাশ পরিষ্কার রাখার রীতির মধ্যে নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখা যায়। উনুনের পুজোর সঙ্গে সাপের সম্পর্ক কী?উনুন থেকেই তৈরি হয় অন্ন। আর অন্নের মূল উৎস শস্য। কৃষিনির্ভর বাংলায় শস্য রক্ষার ক্ষেত্রেও সাপের ভূমিকা ছিল। কীটনাশকের ব্যবহার প্রচলিত হওয়ার আগে জমির শস্য নষ্ট করা ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখত সাপ। সেই কারণেই লোকবিশ্বাসে দেবী মনসার সঙ্গে শস্যরক্ষার যোগ তৈরি হয়েছে। পান্তা আর ১৯ পদের নেপথ্যে কী?আগের রাতের ভাতই পরের দিন পান্তা হিসেবে খাওয়া হয়। কৃষিপ্রধান বাংলায় ভাত ছিল মানুষের প্রধান খাদ্য। তাই দেবীর উদ্দেশ্যে পান্তা অন্ন নিবেদনের রীতির মধ্যেও পুরনো খাদ্যাভ্যাসের ছাপ রয়েছে। আর ১৯ রকম পদের মধ্যে শাকসব্জির আধিক্যও লক্ষ করার মতো। কচুশাক, চালতা, চালকুমড়ো, নারকেল-সহ নানা উপকরণ এই রান্নায় জায়গা পায়। জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয় প্রসাদপুজো শেষ হওয়ার পর দেবীর প্রসাদের কিছুটা একটি পাতায় করে পুকুর বা জলাশয়ে ভাসিয়ে দেওয়ার রীতি রয়েছে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, সেই প্রসাদ প্রয়াত পূর্বপুরুষেরা গ্রহণ করেন। ভাদ্র অমাবস্যার পর থেকেই পিতৃপুরুষকে স্মরণ করার নানা আচার শুরু হয়, যা চলে মহালয়া পর্যন্ত। 

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত