নয়াদিল্লি: ২৪ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস আটক পর্ব কাটিয়ে রবিবার সকালেই মুক্তি পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস। জেল বা পুলিশের চোখরাঙানি যে তাঁদের মনোবল এক বিন্দুও ভাঙতে পারেনি, তা স্পষ্ট করে দিয়ে জেল থেকে বেরিয়েই প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে হুঙ্কার ছেড়েছেন তাঁরা। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনোভাবেই তাঁরা পিছু হটবেন না। একই সঙ্গে রাজধানীর মাটিতে দিল্লি পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকা এবং অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়েছেন সিজেপি নেতারা। শুধু তাই নয়, সরকারের সমস্ত বাধা তুচ্ছ করে আন্দোলন ও বিক্ষোভ জারি রাখার জন্য দেশবাসীর কাছে জোরালো আর্জিও জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দীপকে বলেন, “দিল্লিতে সাধারণ বিক্ষোভকারীদের ওপর যে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে, গত ৭২ ঘণ্টার পরিস্থিতি অতীতে সমস্ত জরুরি অবস্থাকেও লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও আমাদের এই প্রতিবাদ থামবে না, আন্দোলন চলবে।” সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ আরও মারাত্মক অভিযোগ তুলে জানান, তাঁদের তিনজনকেই আইনসম্মতভাবে আটক করা হয়নি, রীতিমতো অপহরণ করেছিল দিল্লি পুলিশ। এমনকি, গত শনিবার যখন দীপকে তাঁর ঠাকুমার মৃত্যুর চরম দুঃখজনক খবর পান, সেই মুহূর্তেও পুলিশ চরম নিষ্ঠুর ও অসংবেদনশীল আচরণ করেছে বলে অভিযোগ তাঁর। অন্য দিকে, ‘ককরোচ’ নেতা সৌরভ দাসের দাবি, বর্তমান সরকারের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে এবং তাদের পতন এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। সরকারের মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে গেছে দাবি করে তাঁর অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন। সৌরভের আরও দাবি, তাঁকে আর কে পুরম এলাকায় আটকে রাখা হলেও বাকি দুই নেতাকে অন্য কোনো গোপন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, প্রশাসনের কোনো রকম অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত শনিবার যন্তর মন্তরে এক বিশাল বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ‘আরশোলা’ তথা সিজেপি শিবির। কিন্তু সেই বিক্ষোভ দানা বাঁধার আগেই ময়দানে নামে দিল্লি পুলিশ। এদিন মুম্বই থেকে রাজধানীর উদ্দেশে উড়ে আসেন দীপকেরা। সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে বিমান দিল্লিতে নামামাত্রই উড়ানের ভেতর থেকে তাঁদের আটক করে পুলিশ। তিনজনকেই আলাদা আলাদা গাড়িতে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ এবং ১৭০ ধারায় তাঁদের সতর্কতামূলক গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অন্যদিকে, এই ধরপাকড়ের অংশ হিসেবে শনিবার সকালেই গুরুগ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছিল ধ্রুবকেও। রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন উঠছে, এই তীব্র দমনপীড়ন কি আদৌ আন্দোলন থামাতে পারবে?

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন