Suvendu Adhikari: নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের মুখে শুভেন্দুর ‘ড্রয়ার-বোমা’, মমতার ‘ভাঙা পা’ অস্ত্রেই পাল্টা চাপ বাড়াচ্ছে বিজেপি
কলকাতা: একদা বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাস বদলে দেওয়া নন্দীগ্রাম আবার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে এ বার নতুন সমীকরণে। আর সেই নন্দীগ্রামের বহু চর্চিত উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচ বছর আগের ‘ভাঙা পা’ বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা ভোটের পর ফের মঙ্গলবার ভোট নন্দীগ্রামে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই মহারণে প্রতিপক্ষকে মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক ভাবে ব্যাকফুটে ফেলতেই কি ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের ‘স্মৃতি’ আবার টেনে আনলেন শুভেন্দু? নবান্নের ড্রয়ার থেকে মমতার গোপনীয় স্বাস্থ্য নথি বের হতেই শুরু হয়েছে তীব্র জলঘোলা।পাঁচ বছর আগের সেই একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে মমতার পায়ে চোট লাগার ঘটনাকে ঘিরে আলোড়িত হয়েছিল বঙ্গ রাজনীতি। প্লাস্টার পরা পায়ে হুইলচেয়ারে চেপে নেত্রীর প্রচার আর ‘ভাঙা পায়ে খেলা হবে’ স্লোগানকে সামনে রেখে ভোট বৈতরণী পার করেছিল তৎকালীন শাসকদল। কিন্তু এখন চিত্রনাট্য পুরো উল্টো। ক্ষমতার অলিন্দ বদলে যাওয়ার পর সেই ‘ভাঙা পা’কেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের সবচেয়ে বড় প্রমাণ বলে দাবি করছেন শুভেন্দু। শুধু দাবি করাই নয়, দিনকয়েক আগে মমতার তৎকালীন মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনে সরাসরি নিশানা করেছিলেন তাঁকে। সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সেই ইস্যুতেই মমতাকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত, “ওঁর আইনজীবীকে বলব এসব নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না। যদি এক্স-রে এবং এমআরআই রিপোর্ট দেখাতে শুরু করি, তা হলে উনি আর ঘর থেকেই বেরোতে পারবেন না!”এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে কী ভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসার গোপনীয় নথি বাইরে এল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আইনজীবীর সাফ কথা, ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট, ২০২৩ লঙ্ঘন করে এই ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে শুভেন্দু একেবারেই ব্যাকফুটে হাঁটতে নারাজ। স্বাস্থ্য দফতরকে ওই আইনি চিঠি নিজের কাছে পাঠানোর কথা বলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, “উনি বোধহয় ভুলে গেছেন যে উনি নিজেই বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছিলেন আর মামলাটা সিআইডির হাতে ছিল। তাই কাগজটা হাসপাতালে থাকার কথাই নয়।” এর পরেই আসল রাজনৈতিক হুঙ্কার দেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। ইঙ্গিতপূর্ণ হাসিতে তাঁর বক্তব্য, “উনি তো ভেবেছিলেন চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ফিরে আসবেন। তাই দফতরের ড্রয়ারে অনেক কাগজপত্র রেখে গিয়েছিলেন, সব বের করে নিয়ে যেতে পারেননি!”রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন এখন উভয়ের কাছেই প্রেস্টিজ ফাইট। সেই নির্বাচনে মমতার দেওয়া ‘আঘাতের গল্প’কে ভুয়া প্রমাণ করতে পারলে তৃণমূলকে শুধু নন্দীগ্রামেই নয়, গোটা রাজ্যেই নৈতিকভাবে কোণঠাসা করা যাবে, এই অঙ্কই কষছে বিজেপি শিবির। অন্য দিকে, চিকিৎসার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের দোহাই দিয়ে মমতার আইনি পদক্ষেপকে ‘ভীত প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন শুভেন্দু। উপনির্বাচনের দামামা বাজার মুখেই ‘নবান্নের ড্রয়ার’ থেকে বের হওয়া মমতার স্বাস্থ্য-নথি যেভাবে রাজনীতির ময়দানে আছড়ে পড়ল, তাতে স্পষ্ট, নন্দীগ্রামের লড়াইয়ে এই ‘ভাঙা পা’ অস্ত্রেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কোণঠাসা করতে তৈরি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।