Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Nandigram Bypoll: ‘ওঁকে ভোটে লড়তে দিন!’ নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক আগের দিন রাজ্যকে চরম ধাক্কা সুপ্রিম কোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
Nandigram Bypoll: ‘ওঁকে ভোটে লড়তে দিন!’ নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক আগের দিন রাজ্যকে চরম ধাক্কা সুপ্রিম কোর্টের
মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন আপাতত বহাল সুপ্রিম কোর্টে। ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে রাজ্য সরকারকে বড়সড় ধাক্কা দিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০০৭ সালের একটি পুরানো মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন বাতিল করার আর্জি খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে জানান, "ওঁকে ভোটে লড়তে দিন। নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।" এই নির্দেশনার ফলে মঙ্গলবার নন্দীগ্রামের হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে ভোটপ্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে মিলনের সামনে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের একটি পুরানো হত্যা মামলায় সম্প্রতি মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরবর্তীতে কলকাতা হাই কোর্ট তাঁকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য তিন সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন দেয় এবং ভোট শেষ হলে হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। তবে হাই কোর্টের এই স্বস্তিদায়ক রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তড়িঘড়ি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। রাজ্যের যুক্তি ছিল, সাধারণ মানুষের মতো প্রার্থীর ক্ষেত্রেও একই আইন প্রযোজ্য হওয়া উচিত এবং ভোটে দাঁড়ানোর জন্য কাউকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া যায় না।

এদিন সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাতের কারণে মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে আগামী ৭ অক্টোবর মামলাটি ফের তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও উপনির্বাচনের আগের দিন রাজ্য সরকারের আর্জি মেনে জামিনে কোনো হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানায় আদালত। রাজ্যের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, মনোনয়ন দাখিলের পর রাজ্য জানতে পারে যে মিলনের বিরুদ্ধে জামিনঅযোগ্য পরোয়ানা ঝুলছিল। এর জবাবে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, এতদিন ধরে পরোয়ানা কেন কার্যকর হয়নি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশে স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে কংগ্রেস শিবির। এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিরুদ্ধে সত্যের জয় বলে দাবি করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তিনি অভিযোগ করেন, প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চালাচ্ছিল সরকার। সুপ্রিম কোর্টের এই কঠোর পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করে দেয় যে রাজ্য প্রশাসন ভয় পেয়েছে। পাশাপাশি নন্দীগ্রামে নিরপেক্ষ ও অবাধ ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে গণনাকেন্দ্র হলদিয়ায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ারও দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।


বিষয় : BengalPolitics SupremeCourt HiddenStoriesNews ElectionUpdate NandigramBypoll MilanPradhan CongressVsBJP

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


Nandigram Bypoll: ‘ওঁকে ভোটে লড়তে দিন!’ নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক আগের দিন রাজ্যকে চরম ধাক্কা সুপ্রিম কোর্টের

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে রাজ্য সরকারকে বড়সড় ধাক্কা দিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০০৭ সালের একটি পুরানো মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন বাতিল করার আর্জি খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে জানান, "ওঁকে ভোটে লড়তে দিন। নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।" এই নির্দেশনার ফলে মঙ্গলবার নন্দীগ্রামের হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে ভোটপ্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে মিলনের সামনে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের একটি পুরানো হত্যা মামলায় সম্প্রতি মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরবর্তীতে কলকাতা হাই কোর্ট তাঁকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য তিন সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন দেয় এবং ভোট শেষ হলে হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। তবে হাই কোর্টের এই স্বস্তিদায়ক রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তড়িঘড়ি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। রাজ্যের যুক্তি ছিল, সাধারণ মানুষের মতো প্রার্থীর ক্ষেত্রেও একই আইন প্রযোজ্য হওয়া উচিত এবং ভোটে দাঁড়ানোর জন্য কাউকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া যায় না।এদিন সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাতের কারণে মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে আগামী ৭ অক্টোবর মামলাটি ফের তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও উপনির্বাচনের আগের দিন রাজ্য সরকারের আর্জি মেনে জামিনে কোনো হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানায় আদালত। রাজ্যের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, মনোনয়ন দাখিলের পর রাজ্য জানতে পারে যে মিলনের বিরুদ্ধে জামিনঅযোগ্য পরোয়ানা ঝুলছিল। এর জবাবে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, এতদিন ধরে পরোয়ানা কেন কার্যকর হয়নি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশে স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে কংগ্রেস শিবির। এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিরুদ্ধে সত্যের জয় বলে দাবি করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তিনি অভিযোগ করেন, প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চালাচ্ছিল সরকার। সুপ্রিম কোর্টের এই কঠোর পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করে দেয় যে রাজ্য প্রশাসন ভয় পেয়েছে। পাশাপাশি নন্দীগ্রামে নিরপেক্ষ ও অবাধ ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে গণনাকেন্দ্র হলদিয়ায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ারও দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত