দিঘা: মাঝসমুদ্রে ফুঁসছে নিম্নচাপ। তার জলজ্যান্ত প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাজ্যের উপকূলজুড়ে। ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর সরাসরি প্রভাবে লণ্ডভণ্ড না হলেও, তার অবশিষ্টাংশ ও বঙ্গোপসাগরের নতুন গভীর নিম্নচাপের যৌথ জোড়া ফলায় কাঁপছে গোটা বাংলা। দিঘার সমুদ্রের গর্জন এখন সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলছে। বুধবার ভোর থেকেই বিশাল বিশাল ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে সৈকতে। বিপজ্জনক পরিস্থিতি সামাল দিতে সকাল থেকেই উপকূলে নেমেছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন। সি-বিচ এলাকা জুড়ে মাইকিং চালিয়ে পর্যটকদের জলে নামতে নিষেধ করা হচ্ছে। মাছ ধরার সব ট্রলার ও মৎস্যজীবীদের নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসার নির্দেশ জারি হয়েছে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম-মধ্য অংশে থাবা গেড়ে বসে থাকা এই নিম্নচাপটি ক্রমাগত শক্তি বাড়িয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এটি আরও ঘনীভূত হয়ে অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এই ঝোড়ো হাওয়া ও জলীয় বাষ্পের ধাক্কায় গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গসহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তৈরি হয়েছে ঘোর দুর্যোগের মেঘ।ঝড়ের মেঘে ঢেকেছে রাজধানী শহর কলকাতাও। ভোররাত থেকেই শহরের অলিগলিতে দফায় দফায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা, টানা বৃষ্টির ফলে মহানগরের নিচু এলাকাগুলিতে জল জমে চরম ভোগান্তি তৈরি হতে পারে। শুধু কলকাতাই নয়, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকবে। বিশেষ করে দুই মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও বীরভূমে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।দক্ষিণবঙ্গের এই জলছবি ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরবঙ্গেও। বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের দাপটে কাঁপছে উত্তরের পাহাড়ি জেলাগুলি। আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ির পাশাপাশি দার্জিলিং ও কালিম্পঙে আজ থেকেই ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে দমকা ঝোড়ো হাওয়া।পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছেন, প্রশাসন সবরকম সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। রাজ্যবাসীকে আপাতত উপকূল থেকে দূরে থাকার এবং আবহাওয়ার সরকারি পূর্বাভাস মেনে সতর্ক চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:12883]