কলকাতা: সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও দেখে মণ্ডপ দেখার লোভ সামলাতে পারেননি নদীয়ার চাকদার বাসিন্দা আরতি সরকার। স্বামী বারণ করা সত্ত্বেও সপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতার পুজো দেখতে ছুটে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু কে জানত, সেই চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপই তাঁর জীবনের শেষ ঠিকানা হয়ে থাকবে? শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগানে পদপিষ্টের সেই ভয়াবহ বিপর্যয় কেড়ে নিয়েছে নদীয়ার আরতি সহ আরও বহু প্রাণ। একই সঙ্গে নিউটাউনের গৌরাঙ্গনগরের দুই স্কুলছাত্রী তানিয়া বিশ্বাস ও বর্ণালী হালদারও নতুন শাড়ি পরে একসঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফিরতে পারেনি। এক লহমায় পুজোর আনন্দ বিষাদে বদলে যাওয়ায় পরিবারগুলিতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।দুর্ঘটনার সেই ভয়ংকর স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন আরতি দেবীর স্বামী রাম সরকার। সপ্তমীতে স্ত্রী ও বোনঝিকে নিয়ে তাঁরা কলকাতায় এসেছিলেন ঠাকুর দেখতে। রামবাবু জানান, মণ্ডপের ভেতর অসম্ভব অন্ধকার ও উপচে পড়া ভিড় ছিল। এর মধ্যেই হঠাৎ বৃষ্টি নামলে বাইরে থাকা হাজার হাজার মানুষ ভেতরে ঢোকার জন্য একযোগে চাপ সৃষ্টি করেন এবং ভেতরে থাকা দর্শনার্থীরাও আটকা পড়েন। হুড়োহুড়ির সেই চরম চাপে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রামবাবু। কোনওরকমে নিজেকে সামলে স্ত্রীকে খুঁজতে গিয়ে তিনি দেখেন, মাটিতে অবচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন আরতি। অভিযোগ উঠেছে, দুর্ঘটনার পর মণ্ডপের বাইরে দীর্ঘ সময় কোনো অ্যাম্বুল্যান্স মেলেনি, প্রায় এক ঘণ্টা পর গাড়ি এসে হাসপাতালে পৌঁছলেও শেষরক্ষা হয়নি।[TECHTARANGA-POST:13751]অন্যদিকে, নিউটাউনের গৌরাঙ্গনগর এলাকার একাদশ শ্রেণির দুই পড়ুয়া তানিয়া ও বর্ণালী একে অপরের ছায়াসঙ্গী ছিল। পুজোর নতুন শাড়ি পরে বন্ধুদের সঙ্গে সল্টলেক ও কলকাতার মণ্ডপ ঘোরার পরিকল্পনা করে তারা বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। কিন্তু চোরবাগানের সেই অভিশপ্ত ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে দুই কিশোরীর অকালমৃত্যুতে তাদের পরিবারগুলো এখন বাকরুদ্ধ ও শোকে পাথর। রিকশাচালক বাবা বর্ণালীর নিথর দেহের ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে মর্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সপ্তমীর সন্ধ্যায় অতিরিক্ত ভিড়, সরু পথ এবং বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট হুড়োহুড়িতে শিশু সহ মোট ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক তরতাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার এই ঘটনা শহরবাসীর বুক চিরে কান্না বের করে এনেছে।