কাঠমাণ্ডু: হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপালে যত সময় গড়াচ্ছে, ততই হু হু করে বাড়ছে মৃত ও নিখোঁজের পরিসংখ্যান। সোমবার সকালে নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে ৯০৩টি দেহ। নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন ৪২৪৭ জন। তাঁদের মধ্যে ৩২০ জন বিদেশি নাগরিক। ষষ্ঠ দিনেও কাদার স্তূপ সরিয়ে চলছে প্রাণের খোঁজ। [TECHTARANGA-POST:12137]ভয়াবহ বন্যা ও হড়পা বানে নেপালের আটটি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চিতোয়ান থেকেই ২৭২টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। নওয়ালপারসি পূর্বে উদ্ধার হয়েছে ২০৭টি এবং নওয়ালপারসি পশ্চিমে ১৫১টি দেহ। গোর্খা থেকে ৬২টি, নুয়াকোটে ৯৫টি, ধাদিঙে ৫৫টি, তানাহুতে ৩৭টি এবং রাসুয়ায় ২৪টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। দেহ উদ্ধার তো করা হচ্ছে, কিন্তু আরও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে মৃতদের শনাক্ত করা। চেহারা দেখে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই উদ্ধার হওয়া দেহগুলি থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে, মৃতের সংখ্যা ভয়াবহ হারে বাড়তে থাকায়, মর্গেও তৈরি হয়েছে জায়গার সংকট। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি ভবনকে অস্থায়ী ভাবে দেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি কোনও সমাধান নয়।[TECHTARANGA-POST:12138]শুধু নেপাল নয়, সীমান্তের ওপারে তিব্বতেও হড়পা বানের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। চিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে এই বিপর্যয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ ৫৪৭ জন। তাঁদের মধ্যে ৪৯ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে বেজিং। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ওই ৪৯ জনই তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। নেপালে আটকে থাকা ভারতীয়দের তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নামও। কলকাতা থেকে যাওয়া ৩২ জনের একটি পর্যটকদল নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের অন্তত ৩৭ জনের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি।