নিউমার্কেট অগ্নিকাণ্ডে অগ্নিমিত্রার কড়া বার্তা, কাঠগড়ায় পুরসভা-সিইএসসি!
কলকাতাঃ নিউ মার্কেটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর একের পর এক প্রশ্ন উঠছে। মধ্যরাতের সেই আগুনে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সামনে এসেছে হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক অভিযোগ। এবার সেই সমস্ত বেনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তদন্ত। বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এলাকা ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি বহুতলের মধ্যে একাধিক হোটেল কীভাবে চলছিল? সেখানে ঘুপচি ঘরের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক এসি চলত বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। এত কিছু থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ সংযোগের অনুমতি কীভাবে মিলল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন মন্ত্রী। এছাড়া ট্রেড লাইসেন্স এবং অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। মন্ত্রীর দাবি, কলকাতা পুরসভার আওতায় থাকা হোটেলগুলির নিয়মকানুন এবং পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হবে। পুরসভার তরফে কীভাবে এই ধরনের হোটেল ব্যবসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। ঘটনাস্থলে যান রাজ্যের দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ও। অগ্নিকাণ্ডের পিছনে কোনও গাফিলতি বা নিয়মভঙ্গ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের কথা জানিয়েছেন প্রশাসনের কর্তারা। [TECHTARANGA-POST:11770]জানা গিয়েছে, ওই বহুতলের ভিতরে একাধিক হোটেল ছিল। ছোট ছোট ঘরে বিপুল সংখ্যক মানুষের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলেও প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। ভিনরাজ্য এবং বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় আসা বহু মানুষ এই ধরনের হোটেলে থাকতেন। ফলে আগুন লাগার পর সরু পথ ও ঘিঞ্জি পরিকাঠামো উদ্ধারকাজেও সমস্যা তৈরি করে বলে জানা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই পুলিশের তরফে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি ডিসিডিডির নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। দমকল বিভাগের তরফেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।