Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Byron Biswas: নিজের ঘরেই অগ্নিদগ্ধ বিধায়ক! কী ভাবে লাগল বায়রনের বাড়িতে আগুন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬
Byron Biswas: নিজের ঘরেই অগ্নিদগ্ধ বিধায়ক! কী ভাবে লাগল বায়রনের বাড়িতে আগুন?
ঘটনার সময় কি মত্ত ছিলেন বিধায়ক বাইয়ন বিশ্বাস? চলছে তদন্ত

সাগরদিঘি: সাগরদিঘির উপনির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির সময়ও বাম-কংগ্রেস জোটের টিকিটে নিজের দুর্গ আগলে সংবাদের শিরোনামে এসেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে কংগ্রেস ও তৃণমূল ঘুরে বর্তমানে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক সেই বায়রন বিশ্বাসই শনিবার সকালে মুখোমুখি হলেন এক চরম প্রাণঘাতী বিপদের। 

ধুলিয়ানে নিজের বাসভবনে বিধ্বংসী আগুনে প্রায় ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। কীভাবে লাগল এই আগুন? ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন রহস্যের মেঘ ঘনাল, তখনই বিস্ফোরক দাবি করে বসলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর সাফ দাবি, পারিবারিক অশান্তির জেরে চরম অবসাদ থেকে নিজেই নিজেকে শেষ করার চেষ্টা করেছিলেন সাগরদিঘির বিধায়ক!

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে খবর, ধুলিয়ানে বায়রনের ওই বিশাল বাসভবনের একটি অংশে রয়েছে বিড়ি কারখানা ও কাঁচামালের গুদাম। শুক্রবার রাতে বায়রন চরম নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। অভিযোগ, সেই অবস্থায় নিজের দাদা ও বোনের কপালে বন্ধুক ঠেকিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন তিনি। 

বিধায়কের এমন রুদ্ররূপ দেখে আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান স্বজনেরা। এরপর ফের নেশায় মগ্ন হয়ে পড়েন বায়রন। শনিবার সকালে বিড়ি তৈরির দাহ্য সামগ্রীর কাছাকাছি আগুন ধরাতেই নিমেষে তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে গোটা বাড়িতে।

তদন্তকারীদের দাবি, দাউদাউ করে আগুন জ্বললেও বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি বায়রন। বরং অগ্নিশিখার ভেতরেই নিজের ঘরে আটকে থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। বিড়ি কারখানার শ্রমিক ও ম্যানেজাররা সাহসিকতার সঙ্গে বিধায়ককে উদ্ধার করেন। 

ততক্ষণে শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে তাঁর। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার সুরেন্দ্র সিং জানান, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সম্পত্তির বিবাদ নাকি অন্য কোনো মানসিক অবসাদ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, নিজেই নিজের গায়ে ও বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন বিধায়ক।

ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই বহরমপুরে এক সাংবাদিক বৈঠকে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, “বাইরন অত্যন্ত ভাল ছেলে। উপনির্বাচনে ওকে টিকিট দিয়েছিলাম, জিতেছিল। পরে দল বদল করলেও ওর ওপর আমার কোনো রাগ ছিল না। ও নিজেই নিজেকে শেষ করার চেষ্টা করেছে।” শীঘ্রই হাসপাতালে বায়রনকে দেখতে যাবেন বলেও জানান তিনি। ধুলিয়ানের সেই ঐতিহ্যবাহী বিড়ি কারখানার ছাইয়ের ভেতর থেকে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—পারিবারিক বিবাদ নাকি রাজনীতির ঘূর্ণাবর্ত, ঠিক কোন চাপে এই চরম পদক্ষেপ নিলেন সাগরদিঘির বিধায়ক?

বিষয় : #HiddenStoriesNews #ByronBiswas #Sagardighi #AdhirChowdhury #Murshidabad #WestBengalPolitics #Dhulian #BreakingNews #BengaliNews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


Byron Biswas: নিজের ঘরেই অগ্নিদগ্ধ বিধায়ক! কী ভাবে লাগল বায়রনের বাড়িতে আগুন?

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
সাগরদিঘি: সাগরদিঘির উপনির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির সময়ও বাম-কংগ্রেস জোটের টিকিটে নিজের দুর্গ আগলে সংবাদের শিরোনামে এসেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে কংগ্রেস ও তৃণমূল ঘুরে বর্তমানে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক সেই বায়রন বিশ্বাসই শনিবার সকালে মুখোমুখি হলেন এক চরম প্রাণঘাতী বিপদের। ধুলিয়ানে নিজের বাসভবনে বিধ্বংসী আগুনে প্রায় ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। কীভাবে লাগল এই আগুন? ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন রহস্যের মেঘ ঘনাল, তখনই বিস্ফোরক দাবি করে বসলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর সাফ দাবি, পারিবারিক অশান্তির জেরে চরম অবসাদ থেকে নিজেই নিজেকে শেষ করার চেষ্টা করেছিলেন সাগরদিঘির বিধায়ক!পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে খবর, ধুলিয়ানে বায়রনের ওই বিশাল বাসভবনের একটি অংশে রয়েছে বিড়ি কারখানা ও কাঁচামালের গুদাম। শুক্রবার রাতে বায়রন চরম নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। অভিযোগ, সেই অবস্থায় নিজের দাদা ও বোনের কপালে বন্ধুক ঠেকিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন তিনি। বিধায়কের এমন রুদ্ররূপ দেখে আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান স্বজনেরা। এরপর ফের নেশায় মগ্ন হয়ে পড়েন বায়রন। শনিবার সকালে বিড়ি তৈরির দাহ্য সামগ্রীর কাছাকাছি আগুন ধরাতেই নিমেষে তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে গোটা বাড়িতে।তদন্তকারীদের দাবি, দাউদাউ করে আগুন জ্বললেও বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি বায়রন। বরং অগ্নিশিখার ভেতরেই নিজের ঘরে আটকে থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। বিড়ি কারখানার শ্রমিক ও ম্যানেজাররা সাহসিকতার সঙ্গে বিধায়ককে উদ্ধার করেন। ততক্ষণে শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে তাঁর। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার সুরেন্দ্র সিং জানান, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সম্পত্তির বিবাদ নাকি অন্য কোনো মানসিক অবসাদ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, নিজেই নিজের গায়ে ও বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন বিধায়ক।ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই বহরমপুরে এক সাংবাদিক বৈঠকে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, “বাইরন অত্যন্ত ভাল ছেলে। উপনির্বাচনে ওকে টিকিট দিয়েছিলাম, জিতেছিল। পরে দল বদল করলেও ওর ওপর আমার কোনো রাগ ছিল না। ও নিজেই নিজেকে শেষ করার চেষ্টা করেছে।” শীঘ্রই হাসপাতালে বায়রনকে দেখতে যাবেন বলেও জানান তিনি। ধুলিয়ানের সেই ঐতিহ্যবাহী বিড়ি কারখানার ছাইয়ের ভেতর থেকে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—পারিবারিক বিবাদ নাকি রাজনীতির ঘূর্ণাবর্ত, ঠিক কোন চাপে এই চরম পদক্ষেপ নিলেন সাগরদিঘির বিধায়ক?

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত