US Army: ইরাক ছাড়ল আমেরিকা, সামনে ইরান! দু’দশক পর সেনা সরিয়ে নেপথ্যে কি বড় কোনও চাল?
২০০৩ সালে সাদ্দাম হুসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার মাধ্যমে সামরিক অধ্যায়ের শুরু হয়েছিল। প্রায় দু’দশকেরও বেশি সময় পর তার শেষের পথে আমেরিকা। ইরাকে থাকা শেষ মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলি থেকে বাহিনী সরিয়ে নিল ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বাগদাদের সঙ্গে করা চুক্তির ভিত্তিতেই এই প্রত্যাহার হচ্ছে।ইরানকে ঘিরে আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত যখন তীব্র, ঠিক তখনই ইরাক থেকে সরছে মার্কিন সেনা। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই প্রত্যাহারের পরে ইরাকের মাটিতে তেহরানের প্রভাব আরও বাড়বে কি না। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরাকে ইরানঘনিষ্ঠ একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটি রয়েছে। রিপোর্টে উঠে এসেছে, তাদের মধ্যে কাতেইব হিজবুল্লা-সহ বেশ কিছু সংগঠনের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে এই গোষ্ঠীগুলির ভূমিকা কতটা বাড়ে, সেটাই এখন দেখার।ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির সরকারের জন্যও পরিস্থিতি সহজ নয়। যদিও, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নতুন নয়। ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসনের সময়ে ইরাকের সঙ্গে হওয়া সমঝোতায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশন শেষ করার রূপরেখা তৈরি হয়েছিল। এখন ট্রাম্প প্রশাসন সেই পরিকল্পনাই কার্যকর করছে। ইরাকে আমেরিকার সামরিক ইতিহাসও কম দীর্ঘ নয়। অভিযান শুরু হয়েছিল ২০০৩ সালে ‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’-এর মাধ্যমে। সাদ্দাম হুসেনের পতনের পর আল কায়দা, ইসলামিক স্টেট এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন বাহিনী বারবার ইরাকে সক্রিয় থেকেছে। দুই দশকেরও বেশি সময়ের সেই সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৪,৫০০ মার্কিন সেনা।