কলকাতা: দুর্গাপুজোর দিনগুলোয় ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে চলাচলের দিন এবার শেষ হতে চলেছে। উৎসবের দিনগুলি নির্বিঘ্ন ও মসৃণ করতে ভগ্নপ্রায় রাস্তাগুলির রূপ পরিবর্তনে কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে রাজ্য প্রশাসন। শুধু মেরামত করাই নয়, সরকারি কাজকর্মে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিয়ে আসা হলো এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। চালু হতে চলেছে বিশেষ একটি অ্যাপ ও ওয়েব পোর্টাল, যার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘পথ নির্মাণ অ্যাপ’ (Patha Nirman App)। কোন পুর এলাকায় রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে, মোট বাজেট কত কিংবা কোন ঠিকাদার সংস্থা এই কাজের দায়িত্বে রয়েছে—সব তথ্যই এখন সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় চলে আসবে বলে জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল।নতুন এই অ্যাপ ও পোর্টালের প্রধান আকর্ষণ হলো কাজের প্রতিটি ধাপের ওপর সরাসরি নজরদারি চালানোর সুযোগ। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে অন্তত তিন সেট ছবি আপলোড করা বাধ্যতামূলক করেছে প্রশাসন। টেন্ডারের প্রয়োজনীয় নথি, বরাদ্দের বিবরণ এবং কাজের অগ্রগতি ঠিক কতখানি—তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য মিলবে এই ডিজিটাল ব্যবস্থায়। এর ফলে আমজনতা নিজ নিজ পাড়ার রাস্তার বর্তমান পরিস্থিতি ও কাজের বাস্তব চিত্র অনায়াসেই দেখতে পাবেন, যা সরকারি অনিয়ম রোধে বড় ভূমিকা নেবে।[TECHTARANGA-POST:13497]প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যেই অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের সমস্ত পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টির জেরে বহু জায়গায় সংস্কারের কাজে বিঘ্ন ঘটলেও পুজোর আগেই সব কাজ শেষ করতে বদ্ধপরিকর প্রশাসন। এমনকি যেসব জায়গায় চরম জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত রাস্তা মেরামত দরকার, সেখানে ‘কুইক ফিক্স’ (Quick Fix)-এর মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যদিও এতে কিছুটা বেশি খরচের বিষয় রয়েছে, তবুও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে।অন্যদিকে, আপনার এলাকার রাস্তা গর্তে ভরে গেলে বা চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠলে এখন আর ঘরে বসে আক্ষেপ করতে হবে না। বাসিন্দাদের সরাসরি প্রশাসনের কাছে নালিশ জানানোর সুযোগ দিতে ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’ (Swachha App) ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভাঙা রাস্তার ছবি তুলে ওই অ্যাপের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিলেই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে রাস্তা সংস্কার ও নাগরিক পরিষেবার এই যুগলবন্দি পুজোর মুখে সাধারণ মানুষকে বড়সড় স্বস্তি দেবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।