কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিল লোকসভা। মহিলা সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে বাদল অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। ফলে চলতি অধিবেশনে আর লোকসভায় যোগ দিতে পারবেন না শ্রীরামপুরের সাংসদ। [TECHTARANGA-POST:11160]সূত্রের খবর, বুধবার অধিবেশনের শুরুতেই এনসিপিআই শিবিরের সাংসদদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহী শিবিরকে উদ্দেশ্য করে একাধিক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। এরপর এনসিপিআই সাংসদ শতাব্দী রায়, মিতালী বাগ-সহ অন্যরা স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানান যে, মহিলা সাংসদদের অপমান করা হয়েছে এবং তাঁদের উদ্দেশ্যে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করা হয়েছে। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখেই স্পিকার সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত নেন। সাসপেন্ড হওয়ার পরও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদ ভবন ছাড়ার সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, "দরকার হলে বাইরে থাকব, কিন্তু বেইমানদের সামনে মাথা নত করব না।"[TECHTARANGA-POST:11169]উল্লেখ্য, এর আগের দিনই ধর্মতলায় কালীঘাট তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের সভায় বক্তব্যের সময় বিতর্কে জড়িয়েছিলেন কল্যাণ। দীর্ঘ ভাষণ নিয়ে আপত্তি ওঠার পর মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। এরপর থেকেই দলের বিরুদ্ধে একাধিক মন্তব্য করতে দেখা যায় তাঁকে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাট তৃণমূলের অন্যতম মুখ্য সাংসদ এবং দলের মুখ্য সচেতক। সংসদে সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভূমিকার জন্য পরিচিত তিনি। তাঁর সাসপেনশনকে কালীঘাট শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে, কল্যাণের পাশে দাঁড়িয়েছেন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, এই সাসপেনশন সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।