25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home Top-News Pandabeswar Coal Mine: পাতালপুরীতে আটকে ১২ প্রাণ! ভোরের আলো ফুটতেই পাণ্ডবেশ্বরের কয়লা খনিতে রুদ্ধশ্বাস অভিযানে অবশেষে সাফল্য
Top-Newsপশ্চিমবঙ্গ

Pandabeswar Coal Mine: পাতালপুরীতে আটকে ১২ প্রাণ! ভোরের আলো ফুটতেই পাণ্ডবেশ্বরের কয়লা খনিতে রুদ্ধশ্বাস অভিযানে অবশেষে সাফল্য

Share
পাণ্ডবেশ্বরের খনি থেকে উদ্ধার ১২ শ্রমিক। ফাইল ছবি
Share

পাণ্ডবেশ্বর: পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরে মাটির গভীরে তৈরি হওয়া ঘনীভূত আতঙ্ক অবশেষে কাটল ভোরের আলো ফুটতেই। কুমারডিহি কোলিয়ারির অন্ধকার কূপে দীর্ঘ সময় ধরে জীবন ও মৃত্যুর মাঝে ঝুলতে থাকা ১২ জন খনি শ্রমিককেই অলৌকিকভাবে ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সোমবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় যেমন চরম উদ্বেগ ছড়ায়, তেমনই মঙ্গলবার ভোরে যৌথ উদ্ধারকারী দলের সাফল্য স্বস্তির হাওয়া এনে দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার বিকেলে, যখন পাণ্ডবেশ্বরের কুমারডিহি এ কোলিয়ারিতে প্রতিদিনের মতো কাজ করতে নেমেছিলেন শ্রমিকরা। হঠাৎই খনির প্রায় ২০০ ফুট গভীরে ডুলিতে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয় এবং ১২ জন শ্রমিক সেখানেই আটকে পড়েন। খবর পেয়ে প্রথমে খনি কর্তৃপক্ষ নিজস্ব স্তরে ডুলি সচল করার চেষ্টা করলেও সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। খনির গভীরে অক্সিজেনের অভাব ও অন্যান্য বিপদের কথা ভেবে ক্রমশ বাড়ে উৎকণ্ঠা। পরিস্থিতি জটিল বুঝে তড়িঘড়ি নামানো হয় বিশেষ উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ প্রশাসনকে।

শুরু হয় রাতভর রুদ্ধশ্বাস ‘অপারেশন’। উদ্ধারকাজের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল খনির গভীরে আটকে থাকাদের আতঙ্ক মুক্ত রাখা। এর জন্য ওয়াকিটকির মাধ্যমে শ্রমিকদের সঙ্গে একটানা যোগাযোগ রক্ষা করেন উদ্ধারকারীরা। দীর্ঘ সময় যাতে কেউ শারীরিক দুর্বলতায় না ভোগেন, তার জন্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় ভেতরে জল ও শুকনো খাবার পাঠানো হয়। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে উদ্ধারকাজের ওপর সরাসরি নজরদারির নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক থেকে শুরু করে দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক অঙ্কিতা আগরওয়াল এবং আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার ডা. প্রণব কুমার নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো অভিযানের তদারকি করেন। সেখানে পৌঁছান পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারিও।

অবশেষে সমস্ত উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিট নাগাদ ১২ জন শ্রমিককেই একে একে নিরাপদে বাইরে বের করে আনা হয়। তাঁদের সকলেই শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে এই ঘটনায় বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা মিললেও কোলিয়ারিগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকাঠামো নিয়ে ফের গম্ভীর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় নেতৃত্ব ও শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, প্রশাসনিক সহযোগিতায় ১২টি প্রাণ বাঁচলেও ভবিষ্যতে যেন এই ধরনের যান্ত্রিক গাফিলতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকে কঠোর নজর দিতে হবে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles