গাইঘাটা: গাইঘাটায় নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশি ‘এনকাউন্টারে’ নিহত অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু নিয়ে এবার বিস্ফোরক দাবি করলেন তাঁর নিজের ভাই ধ্রুব দাস। মৃত যুবক ও ওই ছাত্রীর মধ্যে পূর্বপরিচয় এবং দূরসম্পর্কের আত্মীয়তার কথা স্বীকার করে ধ্রুব জানিয়েছেন, মাঝেমধ্যেই তাঁদের দোকানে আসত ওই একাদশ শ্রেণির ছাত্রীটি এবং মাঝেমধ্যেই তাদের মধ্যে ছোটখাটো ঝামেলা বা ঝগড়া হতো। কিন্তু তাই বলে দাদা এমন একটি জঘন্য অপরাধ ঘটাতে পারেন এবং পরবর্তীতে পুলিশের বন্দুক কেড়ে পালিয়ে এনকাউন্টারে নিহত হবেন—এই পুরো ঘটনাটাই কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না কুড়ির যুবকের পরিবার।
রবিবার সকালে এক প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে ওই ছাত্রীর ক্ষতবিক্ষত ও বিবস্ত্র দেহ উদ্ধারের পরেই পুলিশ তদন্তে নেমে প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ছিল, শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কিশোরীকে মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়। ধৃতের শরীরে ধস্তাধস্তি ও নখের আঁচড়ের দাগও মিলেছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। সোমবার রাতে সেই ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময়েই পুলিশের রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা এবং তিন রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগে পুলিশি পাল্টা গুলিতে মৃত্যু হয় প্রহ্লাদের। অথচ এই পুরো তত্ত্ব নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছেন মৃতের ভাই ধ্রুব।
ধ্রুবর ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার মাঝরাতে আচমকাই পুলিশ তাঁদের বাড়িতে এসে তাঁর বাবা-মাকে ডেকে নিয়ে যায়। তবে সেই সময় তাঁদের মৃত্যুর বা এনকাউন্টারের কোনো কথাই জানানো হয়নি। ঘটনার দিন শনিবারও তিনি দাদাকে স্বাভাবিকভাবেই রাতে বাড়িতে ফিরে ঘুমোতে দেখেছেন, ফলে পরিবারের কারোরই বুঝতে পারার কোনো উপায় ছিল না যে এমন একটা ঝড় অপেক্ষা করছে। ধ্রুবর সাফ কথা, “দাদা এমন কাজ করতে পারে, আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না। আশপাশের প্রতিবেশীদের জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন, সবাই এই ঘটনায় হতবাক হয়ে গেছে।” জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে অবশ্য পুলিশ সূত্রে খবর মিলেছিল, স্কুলছাত্রীটি অভিযুক্তের মাকে নিয়ে কটু কথা বলায় তার ওপর চরম রাগ হয়েছিল প্রহ্লাদের।
এদিকে একদিকে যখন গাইঘাটার এই এনকাউন্টারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করছেন, ঠিক তেমনই অন্যদিকে অভিযুক্তের ভাইয়ের এই বিস্ফোরক দাবি গোটা তদন্ত প্রক্রিয়ায় নতুন করে কৌতূহল ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পুলিশি হেফাজতে নিয়ে গিয়ে পুনর্নির্মাণের সময় কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল এবং সত্যিই কি এটি পরিকল্পিত পালানোর চেষ্টা ছিল না অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা নিয়ে এখন নানা মহলে শুরু হয়েছে জোরদার গুঞ্জন।
Leave a comment