কলকাতা: মেয়েকে প্রেমিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে ধরে ফেলার অভিযোগে এক যুবক ও তাঁর বাবাকে নগ্ন করে রাস্তায় ঘোরানোর রোমহর্ষক ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সরশুনার বসন্ধুরা পার্ক এলাকায় ঘটে যাওয়া এই কান্ডে প্রশাসন নড়েচড়ে বসতেই রবিবার ও সোমবারের উত্তেজনার পর মঙ্গলবার সকালে দ্রুত পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। ধৃত তিন অভিযুক্ত, তরুণীর বাবা, মা ও মামাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে এসে অপরাধের পুনর্নির্মাণ (Crime Scene Reconstruction) করানো হয়। যেভাবে ওই অসহায় পিতা ও পুত্রকে বিবস্ত্র করে ঘোরানো হয়েছিল, পুলিশি নিরাপত্তায় অভিযুক্তদের ঠিক একইভাবে জামাকাপড় ও জুতো ছাড়া ঘটনাস্থলে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপেও এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের আগুন।
ঘটনার সূত্রপাত লক্ষ্মীপুজোর সন্ধ্যায়। সরশুনার বসুন্ধরা পার্ক এলাকায় এক যুবকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ওই কিশোরী। তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি কিশোরীর পরিবার। সেই সময় দু’জনকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় ধরে ফেলেন কিশোরীর মামা সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য। এরপরই শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। যুবক ও তাঁর এক বন্ধুকে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়। অভিযোগ, এরপর যুবকের বাবাকেও ফোন করে ডেকে পাঠানো হয় এবং সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকেও একইভাবে শারীরিক নিগ্রহ করা হয়। এরপরেই নেমে আসে চরম অবমাননা। যুবক, তাঁর বাবা এবং বন্ধুকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য এলাকায় ঘোরানো হয়।
নির্যাতনের এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ রয়েছে, বন্দুক দেখিয়ে যুবকের বাবাকে লেকে গিয়ে আত্মহত্যা বা গুলি করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তাঁর সামনে মোট তিনটি শর্ত রাখা হয়, হয় গুলি করা, নয়তো ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় ফেঁসে যাওয়া, কিংবা বিবস্ত্র হয়ে রাস্তায় ঘোরার অপমান মাথা পেতে নেওয়া। শেষ পর্যন্ত চরম অসহায় অবস্থায় তৃতীয় বিকল্পটি বেছে নিতে বাধ্য হন যুবকের বাবা। চেঁচামেচি শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এলেও তার আগেই অভিযুক্তরা চম্পট দেয়। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে কিশোরীর মামাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সোমবার সকালে যুবকের বাবার করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সরশুনা থানা দ্রুত পদক্ষেপ করে এবং মূল অভিযুক্ত বাবা, মা ও মামাকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযুক্ত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে শাসকদলের এক স্থানীয় কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। আর সেই রাজনৈতিক প্রভাবেই তারা এতটা বেপরোয়া ও নৃশংস হয়ে ওঠার সাহস পেয়েছিল। ঘটনার আকস্মিকতা এবং এই অমানবিক নির্যাতনে যুবকের বাবা মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। স্থানীয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্ট মহল, সকলেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছেন। অপরাধের পুনর্নির্মাণের সময় প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপ দেখে সাময়িক স্বস্তি মিললেও এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং এর পেছনে অন্য কারও মদত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Leave a comment