কলকাতা: দুর্গাপুজোর পাস কেলেঙ্কারিতে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারির মধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে নয়া বিস্ফোরক মোড়। পুজো অনুদান ও পাস দুর্নীতি মামলায় লালবাজারের গোয়েন্দাদের হাতে ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি ঘিরে যখন রাজনৈতিক পারদ চড়ছে, ঠিক তখনই পাল্টা প্রশ্ন তুলে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর সরাসরি প্রশ্ন, দুর্নীতির অভিযোগে যদি প্রাক্তন মন্ত্রী জেলবন্দি হতে পারেন, তবে ১৯টি প্রাণ কেড়ে নেওয়া চোরবাগানের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় অভিযুক্ত বিজেপি নেতাদের এখনও পর্যন্ত কেন গ্রেফতার করা হল না? ক্ষমতার দম্ভে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।

বুধবার রাতে সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতর থেকে হাজিরা দিয়ে বেরোতেই প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করে লালবাজারের গোয়েন্দা শাখা। ‘মাস আর্ট’ প্রতারণা মামলা ও কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে এই পদক্ষেপ করা হয়। ইডি ও কলকাতা পুলিশের যৌথ এই পদক্ষেপে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়।
এই গ্রেফতারি প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক জোরালো পোস্ট করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চোরবাগান বিপর্যয়ের ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় আয়োজকদের বিরুদ্ধে স্বচ্ছ তদন্ত না হওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।
চোরবাগানের ওই মর্মান্তিক ঘটনায় আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান তথা বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা, জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক দেবদীপ অধিকারীর ভূমিকা অবিলম্বে খতিয়ে দেখে তাঁদের গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন অভিষেক।
তাঁর সাফ কথা, বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক যোগ থাকলেই কি কেউ আইনের ঊর্ধ্বে চলে যান? রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা হলে ভবিষ্যতে এর চরম মূল্য চোকাতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং টিমের (সিট) কাছে তাঁর স্পষ্ট দাবি, প্রভাবশালী কুশীলবদের বাঁচানোর চেষ্টা না করে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে, ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি জেরে চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই প্রসঙ্গে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেছেন, দুর্নীতির টাকা একা খাননি ইন্দ্রনীল, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তার যোগ ছিল।
প্রাতিষ্ঠানিক সমস্ত দুর্নীতিগ্রস্তদের জেলের সিংহাসনে বসানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। তবে মোদি জির ‘নতুন ভারত’-এ বিরোধী কণ্ঠরোধের রাজনীতি চলছে বলে তোপ দেগেছেন অভিষেক। এক দিকে ইন্দ্রনীলের গ্রেপ্তার এবং অন্য দিকে চোরবাগানের ঘটনায় বিজেপি নেতাদের রক্ষাকবচ পাওয়ার অভিযোগ, এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
Leave a comment