কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার প্রথম কালীপুজো ও দীপাবলি উদযাপনে অভূতপূর্ব প্রস্তুতির সাক্ষী হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। দুর্গাপুজোর সাফল্যের পর এবার শ্যামাপুজোতেও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজ্য প্রশাসন যখন তৎপর, ঠিক তখনই কলকাতার উপকণ্ঠে অপেক্ষা করছে এক বিশাল চমক। বারাসত বা অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী পুজো ক্ষেত্রগুলোকে টেক্কা দিতে নিউটাউনে আয়োজন করা হচ্ছে রাজ্যের সর্বকালের বৃহত্তম আলোর উৎসব। নিউটাউন সনাতনী দুর্গাপুজো কমিটির উদ্যোগে এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে নিউটাউন মেলা প্রাঙ্গণে জ্বলবে ১ লক্ষ ১১ হাজার ১১১টি প্রদীপ।
পূর্বতন জমানায় প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এই সনাতনী পুজো কমিটিকে হাইকোর্টের দ্বারস্থ পর্যন্ত হতে হয়েছিল। উদ্যোক্তাদের অভিযোগ ছিল, তৎকালীন শাসকদলের আপত্তির মুখেই বারবার থমকে গিয়েছিল তাঁদের আয়োজন। তবে ক্ষমতার রদবদলের পর সেই সমস্ত বাধা পার করে ইতিমধ্যেই ধুমধাম করে দুর্গাপুজো সম্পন্ন করেছে কমিটি। এবার কালীপুজো ও দীপাবলিতে সেই উদযাপনের মাত্রা বহু গুণ বাড়িয়ে নিতে চলেছে তারা।
আগামী ৮ ও ৯ নভেম্বর দু’দিন ধরে নিউটাউন মেলা প্রাঙ্গণে চলবে এই জমকালো আলোর উৎসব। ৮ নভেম্বর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আড়ম্বরের সাথে অনুষ্ঠিত হবে শ্রীশ্রী কালীপুজো। আর ঠিক তার পরদিন, অর্থাৎ ৯ নভেম্বর প্রদীপ প্রজ্বলনের পাশাপাশি আয়োজিত হবে পরিবেশবান্ধব গ্রিন বাজির চোখধাঁধানো প্রদর্শনী। একই সাথে ১,১১,১১১টি প্রদীপের আলোয় ঝলমলিয়ে উঠবে পুরো এলাকা, যা পুজো উদ্যোক্তাদের দাবি অনুযায়ী বাংলার বুকে বৃহত্তম রেকর্ড দীপাবলি।
উদ্যোক্তাদের তরফে বরুণ বিশ্বাস জানিয়েছেন, মহালয়ায় যেভাবে আকাশের আলোর রোশনাই শহরবাসীকে মুগ্ধ করেছিল, ঠিক সেই ধাঁচেই এবার নিউটাউনের দীপাবলি রাজ্যবাসীকে এক নতুন অভিজ্ঞতা উপহার দেবে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এই মেগা ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ায় তাঁকেও আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। এছাড়াও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও চলচ্চিত্র-রাজনৈতিক জগতের তারকারা উপস্থিত থাকবেন এই ঐতিহাসিক আলোর উৎসবে।
Leave a comment