•
Home কলকাতা Sonarpur gang rape: এবার সোনারপুর! মাঝরাতে স্বামীকে বাইরে বার করে স্ত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ
কলকাতা

Sonarpur gang rape: এবার সোনারপুর! মাঝরাতে স্বামীকে বাইরে বার করে স্ত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ

Share
প্রতীকি ছবি
Share

সোনারপুর: রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার নিরাপত্তা নিয়ে ফের এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর। বারুইপুর কাণ্ডের কালো ছায়া কাটতে না কাটতেই ঠিক তার লাগোয়া এলাকায় ঘটল এক নৃশংস ঘটনা। 

গভীর রাতে ঘুম ভাঙিয়ে স্বামীকে ঘর থেকে জোর করে বের করে দিয়ে এক মাঝবয়সী বধূকে দলবেঁধে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল এলাকারই কয়েক জন দাগি সমাজবিরোধীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে সোনারপুর থানা এলাকার একটি বস্তি অঞ্চলে এই জঘন্য ঘটনাটি ঘটে। 

শিউরে ওঠার মতো এই ঘটনায় শনিবার সকালে নির্যাতিতা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই তৎপড়তা দেখিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে, তবে বাকি পলাতক দুষ্কৃতীদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে নির্যাতিতা বধূ সোনারপুরেই তাঁর জামাইবাবুর ভাড়াবাড়িতে ছিলেন। রাতে শেষ ট্রেনে মহিলার স্বামী বাড়ি ফেরেন। এরপর জামাইবাবু ও তাঁর স্ত্রী অন্য একটি বাড়িতে চলে যান। 

আরও খবর: ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আছড়ে পড়ার কাউন্টডাউন শুরু! ১০০ কিমি বেগে তাণ্ডব চালাতে আসছে কোন উপকূলে?

খাওয়া-দাওয়া সেরে জামাইবাবুর ওই ভাড়াবাড়ির ঘরেই স্বামীর সঙ্গে ঘুমোচ্ছিলেন ওই বধূ। অভিযোগ, ঠিক গভীর রাতে আচমকাই পাঁচ জন দুষ্কৃতী জোর করে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়ে। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ওই দম্পতি কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুষ্কৃতীরা ঘুম থেকে টেনেহিঁচড়ে স্বামীকে মারধর শুরু করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁকে জোর করে ঘরের বাইরে বের করে নিয়ে যায়। এরপর ঘরের দরজা আটকে একা পেয়ে ওই বধূকে পাঁচ জন মিলে একে একে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।

ঘটনার আকস্মিকতায় ও চরম আতঙ্কে দম্পতি দিশেহারা হয়ে পড়েন। দুষ্কৃতীরা যাওয়ার সময় চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়, যার জেরে সেই মুহূর্তে মুখ খোলার সাহস পাননি নির্যাতিতা। ফলস্বরূপ পাশের বাড়ির কেউ প্রথমে টের পাননি। 

ঘটনার জেরে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ওই দম্পতি এবং প্রাণ বাঁচাতে ওই রাতেই নির্যাতিতা ক্যানিংয়ে তাঁর মেয়ের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। এরপর শনিবার সকালে সাহসে ভর করে তাঁরা সোজাসুজি সোনারপুর থানায় হাজির হন এবং পুরো বিষয়টি জানিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে এই জঘন্য ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা এলাকার অত্যন্ত কুখ্যাত ও পরিচিত দাগি সমাজবিরোধী। চুরি, ডাকাতি এবং ছিনতাইয়ের মতো একাধিক গুরুতর অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে অতীতেও তারা যুক্ত ছিল এবং সেই অপরাধের দায়ে তারা জেলও খেটেছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, অভিযুক্তদের মধ্যে এক জন কিছুদিন আগেই জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিল। এমনকী, এই নৃশংস ঘটনার ঠিক আগের দিনও অভিযুক্তরা অন্য একটি পাড়ায় গিয়ে এক ব্যক্তিকে বেধড়ক মারধর করে এসেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই ঘটনার পরেই এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের অভিযোগ, সোনারপুরের যে বস্তি এলাকায় এই  কাণ্ড ঘটেছে, তা দীর্ঘদিন ধরেই দুষ্কৃতীদের কাছে একটি ‘মুক্তাঞ্চল’ হিসেবে পরিচিত। ওই এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদকের কারবার চলে এবং কমবয়সি ছেলে-মেয়েরাও নিয়মিত মাদক সেবনের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া অনেকেই সরাসরি মাদক পাচারের কারবারের সঙ্গেও জড়িত। দুষ্কৃতীদের এই লাগামহীন সন্ত্রাস ও হুমকির ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই তটস্থ এবং ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি।

আরও পড়ুন: সাবওয়ে ছেড়ে রেললাইনে কেন? বাঁকুড়ায় জয়ন্ত পালের রহস্যমৃত্যুতে ঘনাচ্ছে ধোঁয়াশা

বারুইপুর কাণ্ডের পর ঠিক এই ধরনের আরও একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা দক্ষিণ ২৪ পরগনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ফের কাঠগড়ায় তুলেছে। ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। 

পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ঘটনার দ্রুত তদন্ত শুরু করে পুলিশ দুই অভিযুক্তকে জালে পুরেছে। তবে বাকি পলাতক অভিযুক্তদের দ্রুত পাকড়াও করার জন্য পুলিশের বিশেষ দল তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *