আসানসোল: উৎসবের আবহ কাটতে না কাটতেই রাজ্যে ফের বড়সড় অস্ত্র ও বিস্ফোরক ভাণ্ডারের হদিস মিলল। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফের জোড়া মেগা অভিযানে তোলপাড় শুরু হয়েছে পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম জেলাজুড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে পাণ্ডবেশ্বর এবং বীরভূমের মুরারই এলাকায় একযোগে চিরুনি তল্লাশি অভিযান চালায় এসটিএফের বিশেষ টিম। এই অভিযান চালিয়ে ২১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৬৫ রাউন্ড জ্যান্ত কার্তুজ এবং ১১৫০টি বিপজ্জনক জিলেটিন স্টিকসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, পাণ্ডবেশ্বরের দাহ্ন গ্রাম থেকে অস্ত্রসহ শেখ শাহজাহান নামে এক দুষ্কৃতীকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়। ৩ এবং ৫ নভেম্বর টানা অভিযান চালিয়ে তার গোপন ডেরা থেকে উদ্ধার হয় ২১টি মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র। এর মধ্যে রয়েছে ৬টি মাস্কেট, ৪টি ৭ এমএম পিস্তল এবং ১১টি পাইপ গান। শুধু তাই নয়, তার হেফাজত থেকে ৪৭টি ৮ এমএম কার্তুজ এবং ১৮টি ৭.৬৫ এমএম কার্তুজও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অপরাধী চক্রটি ঠিক কী উদ্দেশ্যে এই বিপুল পরিমাণ আধুনিক মারণাস্ত্র মজুত করেছিল, তা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিনে বীরভূমের মুরারই থানার অন্তর্গত বারোয়া গোপালপুর ও রাজগ্রাম এলাকাতেও ঝটিকা অভিযান চালায় এসটিএফ। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় মহম্মদ রেজা শেখ ওরফে গুড়া এবং সিউড়ির তিলপাড়ার বাসিন্দা মুকেশ সিংহ নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১,১৫০টি জিলেটিন স্টিক, ৯৮৯টি মারাত্মক ডিটোনেটর এবং ১২,০০০ মিটার লম্বা তার। রাজ্যে বড়সড় কোনো নাশকতা ঘটানোর ছক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্য পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখা তদন্তে নেমেছে।
আরও পড়ুন: ‘আলু আটকানোর দিন শেষ, যত কোটি টাকাই লাগুক ভরতুকি দেবে সরকার!’ পুরশুড়ায় দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর https://hiddenstories.news/2026/11/05/end-of-stopping-potatoes-government-will-provide-subsidy-no-matter-how-many-crores-it-takes-big-announcement-by-cm-shuvendu-standing-in-purshura/
উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরকের উৎস নিয়ে এসটিএফের তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দিনকয়েক আগেই বেআইনি অস্ত্রসহ খইরুল আলম এবং মহম্মদ শামসের নামের দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁদের লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাপ্ত সূত্র ধরেই পাণ্ডবেশ্বর ও বীরভূমের এই গোপন ডেরার সন্ধান পায় পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, এর পেছনে আন্তঃরাজ্য বা বড় কোনো আন্তর্জাতিক অস্ত্রপাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই নিয়ে চলতি অভিযানে এসটিএফ মোট ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১২২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করতে সক্ষম হলো। ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে অস্ত্রের মূল উৎস এবং গন্তব্যস্থল জানার চেষ্টা চলছে।
Leave a comment