ক্যালিফোর্নিয়া: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দাপটে বিশ্বজুড়ে একের পর এক সংস্থায় বিপন্ন সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে হেভিওয়েট ইঞ্জিনিয়ারদের ভবিষ্যৎ। সময় যত এগোচ্ছে, আধুনিক এই প্রযুক্তি যেন ততই বেশি ‘চাকরি খেকো’ হয়ে উঠছে। সম্প্রতি গুগল এবং মাইক্রোসফটের মতো টেক-দানব সংস্থাগুলিতে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পর এবার ঠিক একই পথে হাঁটল মার্ক জুকারবার্গের মেটা। বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার জেরে কর্মীদের এবার স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার অভিনব প্রস্তাব দিয়েছে টেক জায়ান্ট মেটা, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক টেক-দুনিয়ায় চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন সূত্রের খবর, জুকারবার্গের নেতৃত্বাধীন কোম্পানি মেটা প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্রান্সের কর্মীদের জন্য ‘ভলান্টিয়ারি এক্সিট অপশন’ বা স্বেচ্ছায় কাজ ছাড়ার এই প্যাকেজ চালু করেছে। ফ্রান্সে মেটার মোট ৩০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ অন্তত ১০০ জন কর্মী সরাসরি এই ছাঁটাই পরিকল্পনার আওতায় পড়তে চলেছেন। তবে হঠাৎ করেই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে এই কর্মী ছাঁটাই সম্ভব নয়। ফরাসি শ্রম আইনের বিশেষ ‘আরসিসি’ নিয়ম মেনে এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে, যেখানে সংস্থা ও ট্রেড ইউনিয়ন যৌথ আলোচনার মাধ্যমে কর্মী সংখ্যা কমানোর আইনি সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যে সমস্ত ফরাসি কর্মী মেটার দেওয়া এই আর্থিক প্রস্তাব গ্রহণ করে চাকরি ছাড়তে চান, তাঁদের ৫ নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: শুধু গ্রেফতারি নয়, এবার কাউকে আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেও আদালতে পেশ করা বাধ্যতামূলক! সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশে শোরগোল https://hiddenstories.news/2026/11/05/only-arrest-is-not-enough-even-after-detention-person-must-be-produced-in-court-within-24-hours-otherwise-release-supreme-court-order/
ফ্রান্সে শুরু হওয়া এই সিদ্ধান্ত কি পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে? এই নিয়ে মেটার তরফে এখনও কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত না মিললেও বিশ্বজুড়ে সংস্থার কর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পেছনে রয়েছে মেটার এআই কৌশল। এর আগে এপ্রিল মাসে মেটা বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮,০০০ পদ চিরতরে বিলুপ্ত করার কথা ঘোষণা করেছিল। পরবর্তীতে মে মাসে প্রায় ৭,০০০ কর্মীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কিত বিভাগে কাজ করার জন্য পুনর্নিয়োগ করা হয়।
এই বিশাল পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দিয়ে মেটার সিইও মার্ক জুকারবার্গ ইতিপূর্বেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, মেটার এআই প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতির কল্যাণে এখন কোনো একটি বড় প্রজেক্টের কাজ একাই একজন মানুষ সম্পন্ন করে ফেলছেন, যা আগে সম্পন্ন করতে পুরো একটি বড় দলের প্রয়োজন হতো। এর ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে চালিকাশক্তি বানিয়ে খরচ কমানোর পথেই হাঁটছে মেটা, যা পরোক্ষভাবে কেড়ে নিচ্ছে হাজার হাজার মানুষের রুজি-রুটি।
Leave a comment