•
Home Top-News খাবারে ঘুমের ওষুধ, তারপর পাথর দিয়ে থেঁতলে…! স্ত্রী-সহ শ্বশুরবাড়ির ৭ সদস্যকে নৃশংসভাবে খুন করল ট্যাক্সিচালক
Top-Newsদেশ

খাবারে ঘুমের ওষুধ, তারপর পাথর দিয়ে থেঁতলে…! স্ত্রী-সহ শ্বশুরবাড়ির ৭ সদস্যকে নৃশংসভাবে খুন করল ট্যাক্সিচালক

Share
হিডেন স্টোরিজ নিউজ
বেঙ্গালুরুতে অভিযুক্ত ট্যাক্সিচালক। ছবি-সংগৃহীত
Share

বেঙ্গালুরু: প্রথমে নিজের স্ত্রী, আর তারপর একে একে বাপের বাড়ির আরও ছয় সদস্য! চরম নৃশংসতার চরম সীমা পার করে একই পরিবারের সাত জন সদস্যকে খুন করার অভিযোগ উঠল এক ট্যাক্সিচালকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের ট্যাক্সিতে চাপিয়ে মৃতদেহগুলি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ফেলে দিয়ে আসে। বেঙ্গালুরুর শ্রীরামপুরার এই রোমহর্ষক ও হাড়হিম করা ঘটনার পর তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে গোটা এলাকা জুড়ে। ধৃতের নাম ইন্দুশেখর। মৃতদের তালিকায় রয়েছে ইন্দুশেখরের স্ত্রী সুনীতা, শাশুড়ি রূপবতী, দুই শ্যালক, তাঁদের স্ত্রী এবং বছর সাতেকের এক নিষ্পাপ ভাইপো।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও জেরা সূত্রে জানা গিয়েছে, স্ত্রী সুনীতার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই মারাত্মক পারিবারিক অশান্তি চলছিল ইন্দুশেখরের। সুনীতা প্রায়শই বাপের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং সেখানে যেতেন। তাতেই ইন্দুশেখরের মনে প্রবল সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। সে মনে করত, তার বৈবাহিক জীবনের টানাপোড়েন ও অশান্তিতে ইন্ধন জোগাচ্ছেন শ্বশুরবাড়ির লোকেরাই। সেই সন্দেহ আর আক্রোশের বশবর্তী হয়েই এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ছক কষে সে।

আরও পড়ুন : দিওয়ালির আগেই রাজধানীতে মহাবিপর্যয়! গফ্ফর বাজারের বহুতলে দাউদাউ আগুন, ভস্মীভূত কোটি টাকার মোবাইল সামগ্রী

পুলিশি তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে ইন্দুর সেই ভয়ংকর নীল নকশা। প্রথমে নিজের স্ত্রীকে খুন করে তাঁর দেহ চিক্কাবল্লাপুরের নন্দী হিলসের নির্জন এলাকায় ফেলে দিয়ে আসে অভিযুক্ত। এরপর অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় এক বিশাল খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করে শ্বশুরবাড়ির বাকি সদস্যদের নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানায়। সবাই উপস্থিত হলে চতুরতার সাথে খাবারের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয় কড়া ঘুমের ওষুধ। সপরিবারে সকলে অচেতন ও আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে পাথর দিয়ে একে একে প্রত্যেকের মাথা ও মুখ থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। খুন সম্পন্ন হওয়ার পর নিজের ট্যাক্সিতে দেহগুলি তুলে নিয়ে গিয়ে রাতের অন্ধকারে বেঙ্গালুরুর নানা প্রান্তে ফেলে রেখে চম্পট দেয় ইন্দুশেখর।

শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে পর পর সাতটি অজ্ঞাতপরিচয় দেহ উদ্ধারের খবর চাউর হতেই শোরগোল পড়ে যায় পুলিশ প্রশাসনে। তদন্তে নেমে বিভিন্ন সূত্রের মারফতে ইন্দুশেখরের হদিস পায় বেঙ্গালুরু পুলিশ। তাঁকে তড়িঘড়ি আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে কথায় একের পর এক মারাত্মক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পুলিশের লাগাতার জেরার মুখে ভেঙে পড়ে নিজের অপরাধের কথা কবুল করে নেয় অভিযুক্ত ট্যাক্সিচালক। তারপরই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই পরিবারের সাত জনকে এভাবে ছক কষে খুনের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *