নয়াদিল্লি: এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকার ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন সংক্রান্ত একাধিক একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার গুরুতর অভিযোগের মুখে পড়েছিলেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
তাঁর কার্যপদ্ধতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার প্রথম শুনানিতে আপাতত স্বস্তি মিলল নির্বাচন কমিশনের। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শুরু হয়।
এদিন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী অতিরিক্ত সময় চাওয়ায় শীর্ষ আদালত দুই সপ্তাহের সময় মঞ্জুর করেছে। আগামী ১৭ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে। ততদিন পর্যন্ত আইনি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর তীব্র আপত্তি ও অনভিজ্ঞতার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি মামলা দায়ের হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় কমিশন অবশ্য সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দাবি করেছে, উত্থাপিত তথ্যগুলি একটিমাত্র সংবাদ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
কমিশন আরও জানিয়েছে, কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে কর্মকর্তাদের মতামত ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি খতিয়ে দেখা হয়। তবে ফর্ম ৬-এর অনলাইন সংস্করণ পরিবর্তন প্রসঙ্গে কমিশন স্বীকার করেছে, অনলাইনে অতিরিক্ত ঘোষণাটি এমনভাবে দেখানো হয়েছিল যাতে ফর্ম সংশোধিত হয়েছে বলে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। যদিও গত ২১ অক্টোবর অনলাইন প্রক্রিয়ায় মূল ফর্ম ও অতিরিক্ত ঘোষণাটি আলাদা করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে।
শুনানি চলাকালীন ফর্ম ৬ ইস্যুতে জোরদার সওয়াল করেন রাজ্যসভা সাংসদ মেনকা গুরুস্বামী। অন্যদিকে, কমিশনের পক্ষ থেকে সওয়াল করতে গিয়ে জানানো হয় যে প্রসঙ্গ থেকে সম্পূর্ণ সরে গিয়ে এই নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।
এর পরেই আদালতের কাছে হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়। আদালত কমিশনের আবেদন মঞ্জুর করে দু’সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেয়। ফলে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত মামলার পরবর্তী শুনানি স্থগিত রইল।
কমিশন একরত্তি ছাড় দিতে নারাজ হলেও, অন্দরের দ্বন্দ্ব ও পদ্ধতিগত অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর মতো দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা যদি নীতিগত সিদ্ধান্তের পরেও অন্ধকারে থাকেন, তবে তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতার পরিপন্থী কি না, সেই প্রশ্ন জোরাল হচ্ছে।
গোয়ার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া কিংবা পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের নাম পুনর্বহালের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন তুলেছে কমিশনের ভেতরের নথি। তা সত্ত্বেও, সুপ্রিম কোর্টের এই সাময়িক স্থগিতাদেশ ও সময় বৃদ্ধির নির্দেশ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি বড় আইনি স্বস্তি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Leave a comment