কলকাতা: বারুইপুরের পর এবার গাইঘাটায় কিশোরী ধর্ষণ ও খুনে ধৃতের ‘এনকাউন্টার’ মৃত্যু ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল, ঠিক তখনই এই ঘটনায় বিতর্কিত ও জোরালো মন্তব্য করলেন বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা দিলীপ ঘোষ। পুলিশের ভূমিকা ও সাম্প্রতিক একের পর এক অপরাধ দমন নীতিকে সমর্থন করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, সমাজের সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের প্রতি হারানো ভরসা ফিরিয়ে আনতে গেলে প্রশাসনকে কিছু অপ্রিয় ও কঠোর কাজ করতেই হবে।
সোমবার রাতে গাইঘাটায় পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর সময় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের এনকাউন্টার নিয়ে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। এর আগে বারুইপুরেও অনুরূপ একটি ঘটনায় অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, আইন অমান্য করলে এমনটাই হওয়া স্বাভাবিক। তাঁর কথায়, অতীতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরেও খুনি পালানোর সময় একই পরিণতি হয়েছিল, আর এবার গাইঘাটায় ঘটল তার পুনরাবৃত্তি। আইনের ঊর্ধ্বে যে কেউ নেই এবং অপরাধ করলে তার পরিণতি যে এমনই হওয়া উচিত, তা আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
দিলীপ বাবু অত্যন্ত কড়া সুরে অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘকাল ধরে রাজ্যে আইনের সঠিক শাসন না থাকায় অপরাধীদের মনে প্রশাসনের কোনো ভয় কাজ করছে না। পুলিশ প্রশাসনকে উদ্দেশ করে তাঁর মন্তব্য, সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের ওপর থেকে ভরসা হারিয়ে ফেলছিল। সেই আস্থার জায়গাটি পুনর্গঠন করতে হলে পুলিশকে কিছু কঠোর ও অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। তাঁর মতে, সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে অপরাধের কথা ভাবলেও কেউ শিউরে ওঠে। অপরাধীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়া উচিত, যা দেখে সমাজের বাকিরা শিক্ষা নেয় এবং আইন অমান্য করার সাহস না পায়।
এদিকে গাইঘাটার এই পুলিশি এনকাউন্টার ঘিরে একদিকে যেমন নিহত কিশোরীর পরিবার ও স্থানীয়দের একাংশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের আক্রমণাত্মক ও কড়া মনোভাবকে সাধুবাদ জানিয়ে তাঁর এই বক্তব্য আগামী দিনে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
Leave a comment