নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে দেশজুড়ে চলা চরম বিতর্কের মাঝেই নিজেদের অভ্যন্তরীণ অবস্থান নিয়ে রাখঢাক রাখল না নির্বাচন কমিশন। কমিশনের অন্দরে মতবিরোধ রয়েছে বলে যে সমস্ত গুঞ্জন ও অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়ে পড়েছিল, সুপ্রিম কোর্টে যৌথ হলফনামা জমা দিয়ে তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী। শীর্ষ আদালতে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানির ঠিক আগেই কমিশনের এই যৌথ সাফাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এসআইআর-এর কর্মপদ্ধতি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষমতা ও ভূমিকা নিয়ে একাধিক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে কমিশনকে। এর জবাবে শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের জুন, অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের মে মাসে এসআইআর সংক্রান্ত যে তিনটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, তার প্রতিটিই সম্পূর্ণ সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল। ফাইল চালাচালি বা আলোচনার সময় কমিশনারদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে নিজস্ব মতামত, প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও তাকে কখনোই অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ বা সংঘাত হিসেবে দেখা উচিত নয় বলে দাবি করা হয়েছে। কমিশনের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই সমস্ত ফাইল কমিশনারদের হাত ঘুরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে পৌঁছায়, আবার জরুরি পরিস্থিতিতে অনলাইনেও ডিজিটাল অনুমোদন নেওয়া হয়।
হলফনামায় আরও জোরালোভাবে দাবি করা হয়েছে যে, কোনো ফাইলের ওপর কমিশনারদের ব্যক্তিগত নোট বা প্রশ্নকে কখনই কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে ধরে নেওয়া ভুল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অসমর্থিত খবরের ওপর ভিত্তি করেই এই মামলাগুলি দায়ের করা হয়েছে এবং কোনো অভ্যন্তরীণ সরকারি নথি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করার অনুমতি কমিশন দেয়নি। এর পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধনের ফর্ম ৬ প্রসঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, এই ফর্ম পরিবর্তনের এক্তিয়ার কেন্দ্রের। এসআইআর-এর জন্য নির্ধারিত ঘোষণাপত্রটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি নথি হলেও, অনলাইনে আবেদনের সময় তার প্রদর্শন পদ্ধতি দেখে অনেকের মনে ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল। অন্যদিকে, যাঁদের পুরনো তালিকার সঙ্গে ‘ম্যাপিং’ মেলেনি, তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে শুনানিতে হাজির হওয়ার কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশ নেই বলে আশ্বস্ত করেছে কমিশন। বুথ স্তরের কর্মীরা নিজেরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন এবং বিশেষ প্রয়োজনে অনলাইনে শুনানির ব্যবস্থা করা হবে।
সবমিলিয়ে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তাঁর পদ বা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার যে আবেদন করা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ খারিজ করার পক্ষে সওয়াল করেছে কমিশন। সংবিধানের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ছাড়া তাঁকে অপসারণ সম্ভব নয় বলে জানিয়ে এসআইআর বিতর্কে এক প্রকার আইনি ও প্রশাসনিক ঢাল তৈরি করল কমিশন।
Leave a comment