25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home দেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নে নড়েচড়ে বসল এনপিপিএ? ক্যানসারের ওষুধে ৯৩% পর্যন্ত দাম কমানোর ঘোষণা! 
দেশ

সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নে নড়েচড়ে বসল এনপিপিএ? ক্যানসারের ওষুধে ৯৩% পর্যন্ত দাম কমানোর ঘোষণা! 

Share
প্রতীকী ছবি।
Share

কলকাতা: ক্যানসারের চিকিৎসা মানেই দীর্ঘ লড়াই, কিন্তু সেই লড়াইয়ে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ওষুধের বিপুল খরচ। এবার রোগীদের সেই খরচের বোঝা কিছুটা কমতে চলেছে। ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (এনপিপিএ) জানিয়েছে, ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একাধিক ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ১৩৭টি ভাগের মোট ৫৪৩টি ওষুধের দাম সংশোধন করা হয়েছে। কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে দাম কমছে ৯০ শতাংশেরও বেশি। আগামী ৯ নভেম্বর থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।

ক্যানসারের ওষুধের অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক। জীবনদায়ী ওষুধের সর্বাধিক খুচরো বিক্রয়মূল্য নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা চলছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর শুনানির সময় বিচারপতি সন্দীপ মেহতা ও বিচারপতি বিক্রম নাথের বেঞ্চ ওষুধের উৎপাদনমূল্য ও বাজারদরের মধ্যে বিপুল ফারাক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। এই মূল্যবৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে শীর্ষ আদালত।

এরপরেই ক্যানসারের ওষুধের দাম কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে এনপিপিএ। প্রথমে ১৩৭টি নন-শিডিউলড ক্যানসারের ওষুধে লাভের সীমা ৩০ শতাংশে বেঁধে দেওয়ার কথা জানানো হয়। তার পর প্রকাশিত হয়েছে সংশোধিত দামের তালিকা। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কয়েকটি ওষুধের দাম কমার বিষয়টি বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে। ‘পালবোব্রো’ ব্র্যান্ডের ১২৫ মিলিগ্রামের প্যাকের দাম ৪০,৪২১ টাকা থেকে কমে ২,৭২০ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ দাম কমেছে প্রায় ৯৩.৩ শতাংশ। একই ওষুধের ১০০ মিলিগ্রামের প্যাকের ক্ষেত্রে ‘আইসোজেন’ ব্র্যান্ডের দাম কমেছে ৯১.৬ শতাংশ। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যানাস্ট্রোজল ওষুধের ‘ওয়োমাজল’ ব্র্যান্ডের দামও ৪৫৮ টাকা ৮৫ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৩৯ টাকা ৫২ পয়সা। 

তবে বেশ কয়েকটি বহুমূল্য ওষুধের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। ইমিউনোথেরাপিতে ব্যবহৃত ‘কিট্রুডা’র দাম রয়েছে ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘ক্রিক্সানা’র দামও রয়েছে ২৪,৪৩৫ টাকা। ‘ট্যাগ্রিসো’, ‘টেসেনট্রিক’, ‘ডারজালেক্স’ ও ‘ইমফিনজি’র মতো ওষুধের দামেও পরিবর্তন আসেনি। চিকিৎসকদের একাংশের বক্তব্য, বহু ওষুধের নাম সংশোধিত তালিকায় নেই।

দাম কমার পাশাপাশি পেশেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা পিএপি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই ব্যবস্থায় অনেক সময় ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি ক্যানসার রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ দেয়। জেনেরিক ও বায়োসিমিলার ওষুধের দাম এতটা কমে গেলে এই ধরনের সহায়তা কর্মসূচির প্রয়োজন থাকবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *