কাবুল: আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের ব্যাকফুটে তালিবানশাসিত আফগানিস্তান।
বিশ্বজুড়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সূচকে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্থানে নেমে এসেছে দেশটি। ‘ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট’ (ডব্লিউজেপি)-এর ২০২৬ সালের বিশ্ব শাসন সূচকে (রুল অফ ল ইনডেক্স) ১৪৩টি দেশের মধ্যে ১৪২ নম্বরে ঠাঁই পেয়েছে আফগানিস্তান।
এই তালিকায় একেবারে তলানিতে অর্থাৎ ১৪৩ নম্বরে রয়েছে ভেনিজুয়েলা এবং ১৪১ নম্বরে হাইতি। অন্যদিকে, আইনের শাসন ও নাগরিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে শীর্ষ তিন স্থান দখল করেছে যথাক্রমে ডেনমার্ক, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড।
ডব্লিউজেপি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন, মৌলিক অধিকার, সুশাসন, নাগরিক নিরাপত্তা, এবং অপরাধমূলক বিচারে বিশ্ব তালিকায় আফগানিস্তানের অবস্থান সবচেয়ে উদ্বেগজনক। বিশ্বের ৯৫ শতাংশ জনসংখ্যাকে তুলে ধরে প্রায় ২ লক্ষ ১৫ হাজার গৃহস্থালী এবং ৩,৪০০ আইন বিশেষজ্ঞের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, মৌলিক অধিকার ও সুরক্ষায় ১৪০ এবং অপরাধমূলক বিচারব্যবস্থায় আফগানিস্তান ১৩৫ নম্বর স্থানে অবস্থান করছে।
আফগানিস্তানের এই করুণ অবস্থার নেপথ্যে তালিবান রাজত্বের কঠোর মধ্যযুগীয় শাসনব্যবস্থাকেই দায়ী করছেন বিশ্লেষকেরা। ২০২১ সালের অগস্টে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই সংবাদমাধ্যমের ওপর একের পর এক জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’ (আরএসএফ)-এর মতে, গত পাঁচ বছরে আফগানিস্তানকে তথ্য প্রকাশের এক ‘রুদ্ধদ্বার কারারূপে’ পরিণত করেছে তালিবান প্রশাসন। প্রেস ফ্রিডম বা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গুঁড়িয়ে দিতে এ পর্যন্ত ২০টিরও বেশি জাতীয় নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রাণীর ছবি সম্প্রচার নিষিদ্ধ করা থেকে শুরু করে নারী সাংবাদিকদের কাজে বাধা এবং রাজনৈতিক বিতর্ক স্তব্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
পরিস্থিতি আরও বিষাদময় হয়ে ওঠে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে, যখন তালিবান প্রশাসন গোপনে একটি নতুন ফৌজদারি কার্যবিধি বলবৎ করে। ফাঁচ হয়ে যাওয়া এই আইনে তালিবান নেতৃত্বের সমালোচনা করলে জেল ও কড়াকাবুলির বিধান রাখা হয়েছে।
সরকারের বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। আরএসএফ-এর দক্ষিণ এশিয়া ডেস্কের প্রধান সেলিয়া মার্সিয়ারের কথায়, “তালিবান অত্যন্ত চক্রান্তমূলকভাবে সেন্সরশিপ বা সেন্সরি প্রথাকে আইনি রূপ দিয়েছে।” আন্তর্জাতিক মহলের তোপ ও ডব্লিউজেপি-র সূচকে চরম অবমূল্যায়ন, সব মিলিয়ে আফগানিস্তানের চরম প্রশাসনিক ও বিচারবিভাগীয় বিপর্যয় ফের প্রকাশ্যে এল।
Leave a comment