গাইঘাটা: নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার এনকাউন্টারের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের রক্তক্ষয়ী কাণ্ডে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা। বুধবার দুপুরে গাইঘাটা থানার বর্ণবেরিরিয়া রাজবংশী পাড়ার একটি ধানক্ষেত থেকে এক কৃষকের গলাকাটা ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত ওই কৃষকের নাম বাসুদেব দাস, যিনি নোড়াদহ এলাকার বাসিন্দা এবং একটি স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্যার স্বামী। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরকীয়া সম্পর্ক বা বিবাহবহির্ভূত টানাপোড়েনের জোরালো যোগ রয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, এদিন সকালে নিজের লিজ নেওয়া জমিতে পরিচর্যা করতে গিয়েছিলেন বাসুদেব দাস। ঠিক তার পাশেই রয়েছে অভিযুক্ত নাড়ুগোপাল বিশ্বাসের জমি। অভিযোগ, সেই ফাঁকা মাঠে বাসুদেবকে একা পেয়ে কেউ বা কারা এলোপাথাড়ি কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে তাঁর গলা কেটে দেয় এবং পরে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মৃতদেহটি ধানক্ষেতের মধ্যে ফেলে চম্পট দেয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গাইঘাটা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনাস্থলটি পুরোপুরি ঘিরে রেখে তদন্ত শুরু করেছে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জেরে নিহতের পরিবারে কান্নার রোল পড়েছে। বাসুদেবের স্ত্রীর সরাসরি অভিযোগ, নাড়ুগোপাল বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী ঋতুপর্ণা দাস যৌথভাবে চক্রান্ত করে তাঁর স্বামীকে ডেকে নিয়ে এসে খুন করেছে। নিহত বাসুদেবের স্ত্রীর দাবি, অভিযুক্ত ঋতুপর্ণার সঙ্গে তাঁর স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল এবং সেই সম্পর্কের খাতিরেই ঋতুপর্ণাকে মোটা অঙ্কের টাকা পয়সা ধার দিয়েছিলেন বাসুদেব। পরবর্তীতে সেই পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করেই বচসা ও শেষ পর্যন্ত এই চরম পরিণতি হতে পারে বলে সন্দেহ তাঁর। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই নাড়ুগোপাল বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, ঠিক আগের দিনই গাইঘাটায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্তের পুলিশি এনকাউন্টারের ঘটনার জেরে রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। সেই একই এলাকার মাটি ফের আরও এক নৃশংস খুনে রক্তে ভিজে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
Leave a comment