কলকাতা: খেলার শুরুর বাশি বাজার তিন মিনিটের মাথায় গোল খেয়ে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের গ্যালারি। মনে হয়েছিল, নতুন মরশুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা পাঞ্জাব এফসি-র কাছে না জানি আবারও হোঁচট খেতে হয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের!
কিন্তু সবুজ-মেরুন জার্সিধারীদের রক্তেই তো রয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য তাগিদ। ম্যাচের শুরুর ধাক্কা সামলে, মাঠের সমস্ত প্রতিকূলতাকে তুচ্ছ করে দুরন্ত প্রত্যাবর্তনের এক অনন্য উপাখ্যান লিখল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট।
শনিবার রাতে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) ২০২৬-২৭ মরশুমের হাইভোল্টেজ ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও পাঞ্জাব এফসি-কে ২-১ গোলে হারিয়ে লিগ তালিকার শীর্ষে পৌঁছে গেল মেরিনার্সরা। দলের হয়ে স্মরণীয় জয়সূচক দুটি গোল করলেন লি এরউইন এবং দেজান ড্রাজিচ।
সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ম্যাচের সূচনাটা হয়েছিল একেবারে স্বপ্নের মতো পাঞ্জাব এফসি-র জন্য। মাত্র তিন মিনিটের মাথায় সনাচোই মিতেইয়ের বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক চোখ ধাঁধানো ডান পায়ের শটে বল জালে জড়িয়ে দেন পাঞ্জাবের আলফ্রেড প্ল্যানাস মোয়া।
আরও পড়ুন: সঞ্জুর বদলে বৈভব! হ্যামিল্টনে শেষ টি-টোয়েন্টি জিততে চায় ভারত
মোহনবাগান গোলরক্ষক বিশাল কাইথ ডানদিকে ঝাঁপিয়েও সেই বলের নাগাল পাননি। শুরুতেই ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর কিছুটা দিশেহারা দেখায় মোহনবাগানকে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ম্যাচের ১২ মিনিটের মাথায়, যখন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন দলের অন্যতম মূল কান্ডারি সাহাল আব্দুল সামাদ। কিন্তু সাহালের জায়গায় পরিবর্ত হিসেবে নামা অনিরুদ্ধ থাপাই যেন ম্যাচের সম্পূর্ণ গতিপথ বদলে দেন।
খেলার ১৮ মিনিটের মাথায় সবুজ-মেরুনের প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য সূচিত হয়। মাঝমাঠ থেকে অনিরুদ্ধ থাপার মাপা পাস বক্সে পান লি এরউইন। বাঁ পায়ের নিখুঁত ফিনিশে পাঞ্জাব গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে ঠেলে দেন এই স্ট্রাইকার (১-১)।
সমতায় ফেরার পর মোহনবাগানের আক্রমণের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়। ২২ মিনিটের মাথায় দেজান ড্রাজিচের কর্নার থেকে রাহুল ভেকির হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট না হলে তখনই এগিয়ে যেত বাগান। তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে, ৪২ মিনিটের মাথায় আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ। এবার এরউইন বল বাড়ান ড্রাজিচকে। বক্সের বাইরে থেকে জোরালো ডান পায়ের শটে গোল করে মোহনবাগানকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই সার্বিয়ান মিডফিল্ডার।
দ্বিতমার্ধে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে পাঞ্জাব এফসি। কিন্তু বিশাল কাইথের নেতৃত্বাধীন মোহনবাগান রক্ষণভাগ চিনের প্রাচীরের মতো খাড়া হয়ে তাদের সমস্ত আক্রমণ প্রতিহত করে। বিপরীত দিকে, এরউইন, থাপা এবং গোলরক্ষক আরশদীপ সিংহের দুর্দান্ত সেভ না থাকলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত আট মিনিটের ইনজুরি টাইমেও টানটান উত্তেজনা বজায় থাকলেও পাঞ্জাবকে সমতায় ফিরতে দেয়নি মোহনবাগান রক্ষণ।
এই জয়ের ফলে চার ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে সাময়িকভাবে আইএসএল টেবিলের শীর্ষে উঠে এল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। অন্যদিকে, মরশুমের প্রথম হারের স্বাদ পেয়ে চার ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগ তালিকার চার নম্বরে নেমে গেল পাঞ্জাব এফসি।
Leave a comment