•
Home Top-News Rahul Gandhi: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’! মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে রাহুলের ‘চলো দিল্লি’ 
Top-Newsদেশ

Rahul Gandhi: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’! মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে রাহুলের ‘চলো দিল্লি’ 

Share
রামলীলায় আজ রাহুলের অগ্নিপরীক্ষা
Share

নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটাধিকার হরণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে দেশের রাজধানী দিল্লিতে আন্দোলনের রূপরেখা বদলে দিল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী রবিবাসরীয় সকালে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ডাক দিলেন— ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’। 

নির্বাচন কমিশনের তথাকথিত ‘ইলেক্টোরাল অনিয়ম’ এবং বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে রাজপথে নামল বিরোধী শক্তির যৌথ মহাসমাবেশ।

রবিবার দুপুর বারোটার ঠিক আগেই নিজের অফিসিয়াল এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেলে দেশবাসীকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। দিল্লির কনট প্লেসে জমায়েত হয়ে সেখান থেকে পায়ে হেঁটে ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দান অভিমুখে ‘চলো দিল্লি’ পদযাত্রায় সামিল হওয়ার বার্তা দেন তিনি। 

সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় রাহুল লেখেন, “দিল্লি তৈরি হও! ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও। কনট প্লেসে আসুন, সবাই মিলে একসঙ্গে আমরা হাঁটব। অথবা সোজা রামলীলা ময়দানে গিয়ে পৌঁছান, কিন্তু আপনাদের আসতেই হবে। আজ ঠিক দুপুর ১২টায়।” 

বিরোধী শিবিরের দাবি, কেবল দলীয় কর্মী-সমর্থকরাই নন, সাধারণ নাগরিকদের ব্যাপক ও ঐতিহাসিক অংশগ্রহণে রবিবারের এই ‘চলো দিল্লি’ অভিযান দেশব্যাপী আন্দোলনের এক নতুন রূপ নিতে চলেছে।

অন্যদিকে, শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ সঞ্জয় রাউতও এ দিন সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে কড়া বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এই সমাবেশ কেবল শুরু, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত বিরোধী জোট তাদের এই লড়াই এক চুলও থামাবে না। 

তিনি মন্তব্য করেন, “সরকার হয়তো ভেবেছিল আন্দোলন থমে গিয়েছে, কিন্তু জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা এদের ছাড়ব না।” এর পাশাপাশি রাহুল গান্ধীর অভিযোগকে সমর্থন জানিয়ে সঞ্জয় রাউত আরও দাবি করেন যে, দেশের দূরদূরান্ত থেকে আমজনতা ও দলীয় কর্মীদের রামলীলা ময়দানের দিকে আসতে পরিকল্পিতভাবে বাধা দিচ্ছে প্রশাসন।

এই মহাজোটের শক্তিপ্রদর্শনের কেন্দ্রবিন্দু রামলীলা ময়দানে সকাল থেকেই বিভিন্ন বাম, আঞ্চলিক ও সহযোগী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, হাজার হাজার কর্মীবৃন্দ এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা সমবেত হতে শুরু করেছেন। 

ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) যেভাবে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নাম বাদ দেওয়ার কাজ চালাচ্ছে, তার স্বচ্ছতা নিয়ে দেশজুড়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী নেতারা। ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার এই চক্রান্ত প্রতিহত করতেই তাঁরা ময়দানে নেমেছেন বলে জানান বিরোধীরা।

আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে গোটা নতুন দিল্লি ও মধ্য দিল্লি এলাকাকে কার্যত একটি অলঙ্ঘনীয় দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ), সিআইএসএফ, সিআরপিএফ এবং সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) হাজার হাজার জোয়ান মোতায়েন করা হয়েছে রাজপথে। 

বিশেষ করে দীন দয়াল উপাধ্যায় মার্গ এবং নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরের চারপাশে কড়া নিরাপত্তা ও ব্যারিকেড গড়ে তোলা হয়েছে। পুরো দিল্লি জেলা জুড়ে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি রাখা হয়েছে। 

এছাড়াও যন্তর মন্তর এবং ইসিআই দফতরের আশেপাশে যে কোনও ধরনের জমায়েত কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ প্রশাসন। তবে প্রশাসনিক সমস্ত বাধা টপকে দিল্লির রাজপথে বিরোধীদের এই জনসমুদ্র কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশ।

আরও পড়ুন: রামলীলায় ইন্ডিয়া জোটের মেগা সমাবেশ! কড়া নিরাপত্তা, স্তব্ধ হওয়ার মুখে দিল্লির কোটি টাকার বাজার

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *