কলকাতা: দিওয়ালির আগেই রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৬৫ লক্ষ অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা সহ অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পের টাকা সরাসরি পৌঁছে যাবে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে। সাধারণত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই টাকা ঢোকার কথা থাকলেও, কালীপুজো ও দীপাবলির কথা মাথায় রেখে প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে উপকৃত হবেন লক্ষাধিক মানুষ। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, উৎসবের আনন্দ যাতে কোনওভাবেই ফিকে না হয়, সেই কারণেই দ্রুত অর্থ হস্তান্তরের এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্নপূর্ণার ৩ হাজার টাকা ছাড়াও এই দফায় ৮৪ লক্ষ বার্ধক্য ভাতা, দিব্যাঙ্গ ভাতা এবং ৩ লক্ষ লোকপ্রসার শিল্পী ভাতা বন্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উৎসবের মরসুমে এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহায়তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ সামলাতে ও উৎসবের প্রস্তুতি নিতে বড় ভূমিকা নেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, সরকারি এই সাহায্য সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানোর ফলে অর্থনীতিতেও এক ধরনের ইতিবাচক গতি আসবে।
শুধু সামাজিক প্রকল্পই নয়, নবান্নের বৈঠকে উঠে এসেছে রাজ্যের কর্মহীন যুবক-যুবতীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় পরিকল্পনা। সংকল্পপত্রে অন্তর্ভুক্ত ‘ভরসা প্রকল্প’ খুব শীঘ্রই বাস্তবায়িত করার পথে হাঁটছে প্রশাসন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংক্রান্ত প্রস্তাব পেশ করা হবে এবং তা চূড়ান্ত হলেই শুরু হবে এর রূপায়ণ। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, গ্র্যাজুয়েট ও নন-গ্র্যাজুয়েট বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য এই বিশেষ স্কিমটি সাজানো হতে পারে। দীর্ঘদিনের বেকারত্ব সমস্যায় জর্জরিত রাজ্যের যুবসমাজ এই প্রকল্পের মাধ্যমে কীভাবে উপকৃত হবে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সকলের।
এদিকে আবাসন প্রকল্প নিয়ে সুখবর দিয়ে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১৩ তারিখে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে রাজ্যের ৭ লক্ষ ২০ হাজার পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনার প্রাপকের হাতে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা তুলে দেওয়া হবে। এই কাজের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ৪২০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানানো হয়েছে যে, ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৪ কোটি ২০ লক্ষ নাগরিককে আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে গত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত উপকৃত হয়েছেন ২ লক্ষ ২০ হাজার মানুষ। ভিন রাজ্যে থাকা প্রায় ৬ হাজার জন এই প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা পরিষেবা লাভ করেছেন। যার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অর্থ বরাদ্দের অংশ হিসেবে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ২৩ কোটি টাকা খরচ করেছে।
আরও পড়ুন:অভিষেকের খাসতালুকে তৃণমূলের পার্টি অফিসে টাকার পাহাড়, উদ্ধার সোয়া কোটি টাকা!
অন্যদিকে, রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মুর্শিদাবাদে বাবর নামাঙ্কিত কোনো মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হবে না। বাবরকে লুটেরা হিসেবে উল্লেখ করে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জেলার কোনো জায়গায় এমন কোনো নামকরণ করা হলে তার কোনও প্ল্যান বা অনুমোদন মিলবে না। জেলার ডিএম-কে এই মর্মে কড়া নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে জেলার স্থানীয় কোনো গুণী বা কৃতি মানুষের নামে প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা যেতে পারে, তাতে কোনো বাধা নেই।
Leave a comment