কলকাতা: লাগাতার ছাত্র বিক্ষোভ, বহিরাগতদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহের জেরে অবশেষে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই) কর্তৃপক্ষ। আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমস্ত পঠন-পাঠন এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে গেছে যে, অবিলম্বে সমস্ত ছাত্রছাত্রীকে হস্টেল খালি করে বাড়ি চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের অন্যতম সেরা এই চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন নজিরবিহীন পদক্ষেপে গোটা শিক্ষামহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোরগোল পড়ে গেছে।
গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিক থেকেই একের পর এক অশান্তিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল এসআরএফটিআই-এর চত্বর। অখিল ভারতীয় গ্রাহক পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের আবাসিক ছাত্রদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ক্যাম্পাসের ভেতর ফের ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেও বিক্ষোভকারী ছাত্রদের খণ্ডযুদ্ধ এবং হাতাহাতির পরিবেশ তৈরি হয়। দুর্গাপুজোর ঠিক প্রাক্কালে মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে বিশাল পুলিশ বাহিনী প্রবেশ করার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনাও ঘটেছিল। দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই অচলাবস্থা কাটানোর পরিবর্তে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করায় শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধের মতো কড়া সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: ‘গ্রেফতার করুক বা মেরেই ফেলুক, ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরব!’ ট্রাম্পের হারের পর হুঙ্কার শেখ হাসিনার
কর্তৃপক্ষের সাফ দাবি, ক্যাম্পাসের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ছাত্রদের লাগাতার আন্দোলন থামাতে এই চরম পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীদের মূল দাবি হলো, বর্তমান উপাচার্যকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। এই প্রশাসনিক ও ছাত্র পক্ষের সংঘাতে পঠন-পাঠনের পরিবেশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। এই ইস্যুতে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে জোরকদমে। বিজেপি নেতা দেবজিৎ সরকার এই বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি এবং সমস্ত সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেছেন, “এটি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান। কর্তৃপক্ষ যদি মনে করেন তাঁরা প্রতিষ্ঠান চালাতে ব্যর্থ, তবে তাঁদের লজ্জা থাকা উচিত এবং পদত্যাগ করা উচিত। প্রয়োজন হলে কেন্দ্র নতুন লোক নিয়ে আসুক।”
Leave a comment