ওয়েলিংটন: বৃষ্টি একদিকে যেমন দিল, অন্যদিকে কেড়েও নিল।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে বৃষ্টি বিঘ্নিত ৪৭ ওভারের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বৃষ্টিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের চূড়ান্ত ফয়সালা লিখে দিল। তবে ম্যাচের শেষে জয়ী দলের নাম ভারত। ওয়েলিংটনের উইকেটে টস থেকে শুরু করে গতি ও বাউন্সের মেলবন্ধনে শেষ হাসি হাসল শুভমন গিলের দল।
নিউজিল্যান্ডকে ১৩৪ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ভারত যখন ৭ উইকেটে ১১৩ রানে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই নামল ভারী বৃষ্টি। তবে ততক্ষণে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (DLS) পার স্কোরের থেকে ঠিক ৪ রান এগিয়ে ছিল ভারত। আর তাতেই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জয় নিশ্চিত করে ফেলল সফরকারীরা।
ওয়েলিংটনের এই পিচটি যেন ব্যাটারদের জন্য আক্ষরিক অর্থেই ‘ট্র্যাম্পোলিন’ হয়ে উঠেছিল। ম্যাচের একমাত্র হাফ-সেঞ্চুরি করা নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেলও স্বীকার করে নেন যে, বলের অস্বাভাবিক লাফ, অপ্রত্যাশিত পেস এবং অসমান বাউন্সের কারণে ব্যাটিং করা মারাত্মক কঠিন ছিল।
নিউজিল্যান্ডের মাল্টি-স্পোর্টস গ্রাউন্ডে পিচের আশপাশে শক্ত স্কোয়ার না থাকায় আউটফিল্ডের ঘাসে বল পড়ে গতি হারিয়ে ফেলছিল, ফলে গ্যাপে বল ঠেলে খুচরো রান তোলা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এই বিষাক্ত উইকেটে ভারতীয় পেসাররা শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরেন।
আরও পড়ুন : লাল বলে সফর শেষ, টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর মহম্মদ শামির
চার পেসার নিয়ে মাঠে নামা ভারতীয় অ্যাটাক কিন্তু শুরু থেকেই উইকেট খুঁজতে দৌড়ায়নি। বরং লেংথ বজায় রেখে উইকেটে জোর আঘাত করে যাচ্ছিলেন গুরনুর ব্রার, আনশুল কম্বোজ ও আকিব নবিরা। ভারতের এই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ফাঁদে পড়েই শট খেলতে গিয়ে একের পর এক উইকেট উপহার দিয়ে আসেন কিউই ব্যাটাররা। যার মধ্যে আগুনে স্পেল করে নিজের কেরিয়ার সেরা বোলিং (৪ উইকেট) নথিভুক্ত করলেন ভারতীয় তরুণ পেসার গুরনুর ব্রার।
টসে হারাটাই যেন নিউজিল্যান্ডের জন্য অভিশাপ হয়ে উঠেছিল। সফরকালে সাতটির মধ্যে ছয়টি টসেই হারল তারা। ভারতের গতিময় আক্রমণের সামনে খাতা খোলার আগেই আকিব নবীর বলে শর্ট মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন টিম সাইফার্ট।
অতিরিক্ত বাউন্স ও সুইংয়ে কুপোকাত হন উইল ইয়াং। আনশুল কম্বোজের নিখুঁত লাইনে প্লেড-অন হয়ে সাজঘরে ফেরেন হেনরি নিকোলস। ২৩ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ড্যারিল মিচেল ও অধিনায়ক টম ল্যাথাম পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু গুরনুরের লাফিয়ে ওঠা শর্ট বলে পুল মারতে গিয়ে ল্যাথাম ও গ্লেন ফিলিপস উভয়েই একই ওভারে উইকেটের পেছনে ও টপ এজ হয়ে ক্যাচ তুলে দেন।
ছয় নম্বর উইকেটে মিচেল সান্টনার এবং ড্যারিল মিচেল ৫৯ রানের এক গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তোলেন। কিন্তু আক্সার প্যাটেলের স্পিনের সামনে মিচেল ছটফট করতে থাকেন। ২৬ বলে মাত্র ১০ রান করার পর ধৈর্য হারিয়ে আক্সারকে সোজা তুলে মারতে গিয়ে লং-অফে ক্যাচ দেন তিনি। ব্রারের ঘাতক শর্ট পিচ বোলিং টেল-এন্ডারদের দ্রুত তছনছ করে দেয়। অন্যদিকে কম্বোজের এক মারণ বাউন্সারের আঘাতে কনকাশনের শিকার হন ব্লেয়ার টিকনার, যাঁর জায়গায় কনকাশন সাব হিসেবে মাঠে নামানো হয় ম্যাট ফিশারকে।
১৩৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা ধাক্কা দিয়ে হয়েছিল। শূন্য রানে আউট হন শুভমন গিল। কিন্তু গিলের উইকেটের পর ভারতের বাকি ব্যাটাররা প্রতিরক্ষা নয়, বরং আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে ব্যাট চালানো শুরু করেন।
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের মতো রক্ষণাত্মক না হয়ে রোহিত শর্মা তাঁর ২৩ রানের মধ্যে ২০ রানই তুলে নেন চার ও ছক্কায়। দ্বিতীয় বলেই বাউন্ডারি মেরে খাতা খোলেন বিরাট কোহলি। শ্রেয়স আইয়ার ও কেএল রাহুলও খারাপ বল পেলেই তার ওপর চড়াও হন। ভারতের ১১৩ রানের মধ্যে ৭৮ রানই আসে চার ও ছক্কা থেকে।
কিউই পেসার কাইল জেমিসন এবং জ্যাকব ডাফি মারাত্মক বোলিং করছিলেন। গিলের পর বিরাটের উইকেট তুলে নেন ডাফি। কিন্তু জেমিসনের বিষাক্ত স্পেলের প্রথম ২৭ বলের ২৫টিই বুদ্ধি করে সামাল দেন অধিনায়ক রোহিত, তুলে নেন ২১ রান।
জেমিসনের এক প্রাণঘাতী বাউন্সারে ৩০ রানে ফেরেন আইয়ার। এরপর ডাফি এক ওভারে নমন ধীর ও কম্বোজকে আউট করে ভারতের ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় বৃষ্টি নেমে পড়ায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টি যখন এল, ঠিক তার আগেই ভারত পার স্কোরের থেকে ৪ রান এগিয়ে থাকায় ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে শুভমনরা।
Leave a comment