হিঙ্গলগঞ্জ: দেশের সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে আলোর উৎসব কাটানোর যে প্রথা ও অনুপ্রেরণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বছরের পর বছর ধরে লালন করে আসছেন, সেই একই পথ অনুসরণ করে রাজ্যের নতুন ডবল ইঞ্জিন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক অনন্য নজির গড়ে তুললেন।
উৎসবের দিনে ঘরছাড়া অতন্দ্র প্রহরীদের মুখে হাসি ফোটাতে রবিবার, দীপাবলির সকালে সোজা উত্তর ২৪ পরগনার বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা হিঙ্গলগঞ্জে পৌঁছে গেলেন তিনি। জওয়ানদের হাতে মিষ্টি ও মাটির প্রদীপ তুলে দেওয়ার পাশাপাশি এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সীমান্তে জওয়ানদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি জানাতে ২০২৭ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার চালু করতে চলেছে নতুন সম্মাননা ‘সীমামিত্র সম্মান’। একই সঙ্গে, সীমান্তে অতীত সরকারের অসহযোগিতা ও বিরূপ আচরণের জন্য বিএসএফের কাছে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে ক্ষমা চাইলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগেই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রীর মতো তিনিও প্রতি বছর দেওয়ালির আনন্দ ভাগ করে নেবেন সীমান্তের কাঁটাতারের প্রহরীদের সঙ্গে। সেই প্রতিশ্রুতি মেনেই রবিবার সকালে হিঙ্গলগঞ্জের বিএসএফ ক্যাম্পে অবতরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: সীমান্তরক্ষী ও পুলিশের সঙ্গে আলোকউৎসবের আনন্দে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
বিএসএফ-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও জওয়ানরা সেখানে শুভেন্দু অধিকারীকে উত্তরীয় পরিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে আনা ঝুড়িভর্তি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি জওয়ানদের হাতে তুলে দেন এবং নিজের হাতে তাঁদের মিষ্টিমুখ করান।
উৎসবের স্মারক হিসেবে তুলে দেন দীপাবলীর মাটির প্রদীপও। সুদূর সীমান্তে পরিজনদের ছাড়া ডিউটিতে থাকা সীমান্তরক্ষীদের মাঝে শুভেন্দুর এই উপস্থিতি জওয়ানদের কাছেও হয়ে ওঠে এক পারিবারিক আনন্দের মুহূর্ত।
এর পর জওয়ানদের উদ্দেশে এক আবেগঘন ভাষণ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বক্তব্য রাখতে উঠে শুরুতেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিএসএফ জওয়ানদের কাছে ক্ষমা চেয়ে শুভেন্দু বলেন, “আগের সরকার বিভিন্ন সময়ে বিএসএফের বিরুদ্ধে যে কটু ও বাজে মন্তব্য ব্যবহার করেছিল, তার জন্য রাজ্য সরকারের প্রধান হিসেবে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।
বিগত সরকার আপনাদের সঙ্গে ন্যূনতম সহযোগিতাও করেনি। এমনকি সীমান্তের কাঁটাতার বসানোর বহু গুরুত্বপূর্ণ জমিও বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছিল। তবে আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসেই কালবিলম্ব না করে সেই সমস্ত আটকে থাকা জমি হস্তান্তর করেছে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যদি আরও জমি লাগে, তবে আমাদের সরকার তাও অবিলম্বে প্রদান করবে।”
এর পরেই ভাষণের মঞ্চ থেকে এক যুগান্তকারী ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সাল থেকে বিএসএফ জওয়ানদের বিশেষ কাজের স্বীকৃতি দিতে রাজ্য সরকার প্রদান করবে ‘সীমামিত্র সম্মান’।
কেন্দ্রীয় সরকার যেমন প্রতি বছর সেনা ও আধা-সামরিক বাহিনীর সাহসিকতা ও বীরত্বের জন্য নানা পদক ও শংসাপত্র দিয়ে থাকে, সেই ধাঁচেই এ বার পশ্চিমবঙ্গ সরকারও রাজ্যে কর্মরত সীমান্তরক্ষীদের কাজের মূল্য দিতে এই সম্মাননার সূচনা করতে চলেছে। রাজ্য সরকারের এই ঘোষণায় ক্যাম্প চত্বরে করতালির ঝড় ওঠে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন মিটিয়ে পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখার ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর ও ‘সীমামিত্র সম্মান’-এর ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক পদক্ষেপ।
Leave a comment