কলকাতা: তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনের রাতে কালীঘাটে তাঁর বাড়ির সামনে চরম উত্তেজনা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক পদক্ষেপের পর এবার স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে জোড়া মামলা রুজু করল পুলিশ, যার একটিতে খোদ ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেকের নাম রয়েছে। পাশাপাশি, বচসার সময় পুলিশ কর্মীকে চড় মারার অভিযোগে ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বাকীদের চিহ্নিত করার কাজ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
শুক্রবার মধ্যরাতে অভিষেকের জন্মদিন পালনকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের প্রথমে বচসা এবং পরবর্তীতে তা রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। ধস্তাধস্তি, ইট বৃষ্টি এবং কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ পর্যন্ত করতে হয়। ঘটনার প্রতিবাদে রাতভর নিজের বাড়ির বাইরে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের সাথে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে তিনি অভিযোগ করেন, পেরেক বসানো লাঠি নিয়ে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর অনুগামীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: দীপাবলিতে ‘সীমামিত্র’ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, পূর্বসূরিদের আচরণের জন্য ক্ষমা চাইলেন বিএসএফের কাছে
এই ঘটনার পর শনিবার সকালে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কালীঘাট থানার ওসি বলাই বাগ এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। কালীঘাট থানার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি চরম হুঁশিয়ারিও দেন। পাল্টা বিজেপি কর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং পুলিশের নিজস্ব উদ্যোগে কালীঘাট থানায় মোট তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিষেকের দাবি, আক্রমণের আশঙ্কা জানিয়ে তিনি আগেই লোকসভার স্পিকারকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। আপাতত পুলিশি টহলে এলাকা শান্ত হলেও এই ঘটনা কেন্দ্র করে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর তুঙ্গে।
Leave a comment