Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

পাহাড় থেকে সমতলে প্রকৃতির তাণ্ডবলীলা! বন্ধ বহু রাস্তা, জলের তলায় ঘাট—রেড অ্যালার্ট জারি তিন রাজ্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাহাড় থেকে সমতলে প্রকৃতির তাণ্ডবলীলা! বন্ধ বহু রাস্তা, জলের তলায় ঘাট—রেড অ্যালার্ট জারি তিন রাজ্যে
ধস-বন্যায় লণ্ডভণ্ড উত্তর ভারত। ছবি-সংগৃহীত

দেরাদুন: টানা বর্ষণ, ভয়াবহ হড়পা বান আর একের পর এক ধসে কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে উত্তরাখণ্ড। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে স্বাভাবিক জনজীবন সম্পূর্ণ স্তব্ধ। ইতিমধ্যেই দেবভূমিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বলি হয়েছেন অন্তত সাত জন। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ধসের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে রাজ্যের ১৭২টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, যার মধ্যে পিথোরাগড়, বাগেশ্বর ও নৈনীতালের প্রধান জাতীয় সড়কগুলিও রয়েছে। গোলা নদী থেকে প্রায় ২৭ হাজার কিউসেক জল ছাড়ায় হলদোয়ানী, উধম সিংহ নগর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তৈরি হয়েছে তীব্র বন্যা পরিস্থিতি। খকরা নদীর জল উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করায় বানভাসি বাসিন্দাদের তড়িঘড়ি নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করেছে প্রশাসন।

পাহাড়ের এই চরম দুর্যোগে মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পৌড়ীর কোটদ্বারে খরস্রোতা নদীর জলে ভেসে মৃত্যু হয়েছে এক মা এবং তাঁর দেড় বছরের শিশুকন্যার। অন্যদিকে অলমোড়ার হবালবাগে ধসে ভেঙে পড়া মাটির বাড়ির নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই মহিলা ও একটি শিশু। টুনি এলাকায় পাহাড়ের চাপ ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে দুই নেপালি শ্রমিকের। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নৈনীতাল, চম্পাবত, পিথোরাগড় ও উধম সিংহ নগরে সমস্ত স্কুল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার কড়া নির্দেশ জারি হয়েছে। বাগেশ্বরে ১০৯ নম্বর জাতীয় সড়ক ও টিহরীতে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধসে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্তব্ধ যান চলাচল। ফুঁসছে কোশী ও শিপ্রা নদীও।

পাহাড়ের এই বিপর্যয়ের মারাত্মক প্রভাব আছড়ে পড়েছে সমতলেও। উত্তরপ্রদেশে গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা পেরিয়ে যাওয়ায় বারাণসীর ঐতিহাসিক ৮৪টি ঘাট পুরোপুরি জলের তলায় চলে গিয়েছে। চিত্রকূটে মন্দাকিনী নদীর তীব্র স্রোতে রামঘাট ও নয়াগাঁও সংযোগকারী সেতু ক্ষতিগ্রস্ত। প্রতাপগড়, সোনভদ্র, কানপুর-সহ রাজ্যের ২০টির বেশি জেলায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য অতিভারী বৃষ্টির লাল ও কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডের অবস্থাও সংকটজনক। রাজ্যের অন্তত ১০টি জেলায় হড়পা বানের তীব্র সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পলামু, সিমডেগা, গরওয়া এবং পশ্চিম সিংভূমে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জারি রয়েছে সর্বোচ্চ লাল সতর্কতা (Red Alert)।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : HiddenStoriesNews LandslideAlert UttarakhandDisaster VaranasiFloods UttarPradeshRains JharkhandWeather FlashFloodWarning MonsoonHavoc

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পাহাড় থেকে সমতলে প্রকৃতির তাণ্ডবলীলা! বন্ধ বহু রাস্তা, জলের তলায় ঘাট—রেড অ্যালার্ট জারি তিন রাজ্যে

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
দেরাদুন: টানা বর্ষণ, ভয়াবহ হড়পা বান আর একের পর এক ধসে কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে উত্তরাখণ্ড। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে স্বাভাবিক জনজীবন সম্পূর্ণ স্তব্ধ। ইতিমধ্যেই দেবভূমিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বলি হয়েছেন অন্তত সাত জন। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ধসের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে রাজ্যের ১৭২টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, যার মধ্যে পিথোরাগড়, বাগেশ্বর ও নৈনীতালের প্রধান জাতীয় সড়কগুলিও রয়েছে। গোলা নদী থেকে প্রায় ২৭ হাজার কিউসেক জল ছাড়ায় হলদোয়ানী, উধম সিংহ নগর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তৈরি হয়েছে তীব্র বন্যা পরিস্থিতি। খকরা নদীর জল উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করায় বানভাসি বাসিন্দাদের তড়িঘড়ি নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করেছে প্রশাসন।পাহাড়ের এই চরম দুর্যোগে মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পৌড়ীর কোটদ্বারে খরস্রোতা নদীর জলে ভেসে মৃত্যু হয়েছে এক মা এবং তাঁর দেড় বছরের শিশুকন্যার। অন্যদিকে অলমোড়ার হবালবাগে ধসে ভেঙে পড়া মাটির বাড়ির নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই মহিলা ও একটি শিশু। টুনি এলাকায় পাহাড়ের চাপ ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে দুই নেপালি শ্রমিকের। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নৈনীতাল, চম্পাবত, পিথোরাগড় ও উধম সিংহ নগরে সমস্ত স্কুল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার কড়া নির্দেশ জারি হয়েছে। বাগেশ্বরে ১০৯ নম্বর জাতীয় সড়ক ও টিহরীতে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধসে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্তব্ধ যান চলাচল। ফুঁসছে কোশী ও শিপ্রা নদীও।পাহাড়ের এই বিপর্যয়ের মারাত্মক প্রভাব আছড়ে পড়েছে সমতলেও। উত্তরপ্রদেশে গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা পেরিয়ে যাওয়ায় বারাণসীর ঐতিহাসিক ৮৪টি ঘাট পুরোপুরি জলের তলায় চলে গিয়েছে। চিত্রকূটে মন্দাকিনী নদীর তীব্র স্রোতে রামঘাট ও নয়াগাঁও সংযোগকারী সেতু ক্ষতিগ্রস্ত। প্রতাপগড়, সোনভদ্র, কানপুর-সহ রাজ্যের ২০টির বেশি জেলায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য অতিভারী বৃষ্টির লাল ও কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডের অবস্থাও সংকটজনক। রাজ্যের অন্তত ১০টি জেলায় হড়পা বানের তীব্র সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পলামু, সিমডেগা, গরওয়া এবং পশ্চিম সিংভূমে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জারি রয়েছে সর্বোচ্চ লাল সতর্কতা (Red Alert)।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত