কলকাতা: বিলাসবহুল জীবন আর মোটা মাইনের ভুয়ো চাকরির টোপ! সেই ফাঁদে পা দিয়েই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভয়াবহ সাইবার ক্রাইম ডেনে বিক্রি হয়ে যাওয়ার মুখে বসেছিলেন রাজস্থানের দুই যুবক। তবে শেষরক্ষা হলো না। কলকাতা থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে মায়ানমার হয়ে কম্বোডিয়ায় পাচারের সেই ছক একেবারে বানচাল করে দিল শিয়ালদহ জিআরপি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শিয়ালদহ স্টেশন থেকেই আন্তর্জাতিক মানব পাচারচক্রের মূল পান্ডাসহ ৩ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে রেল পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, মূল অভিযুক্ত জয়পুরের বাসিন্দা রবিকুমার আজমেঢ় থেকে দুই যুবক— ঋতুরাজ তিওয়ারি ও অনিল কুমারকে নিয়ে রেলে চেপে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। উদ্দেশ্য ছিল, কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ হয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে মায়ানমারে ঢোকা এবং সেখান থেকে কম্বোডিয়া পৌঁছানো। তবে রওনা দেওয়ার পর এক যুবকের পরিবার বিষয়টি বুঝতে পেরে রাজস্থান পুলিশের দ্বারস্থ হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে রাজস্থান পুলিশ কালবিলম্ব না করে শিয়ালদহ জিআরপির সঙ্গে যোগাযোগ করে। খবর পাওয়ামাত্রই সোমবার শিয়ালদহ স্টেশনে অভিযান চালিয়ে ওই ৩ জনকে পাকড়াও করে রেল পুলিশ।
তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মোটা টাকার লোভে অনিল ও ঋতুরাজ জেনেশুনেই কম্বোডিয়ার বেআইনি ও ভুয়ো কল সেন্টারে সাইবার অপরাধের কাজে যোগ দিতে যাচ্ছিল। বিশেষ করে ঋতুরাজ তিওয়ারি এর আগেও কম্বোডিয়ার সাইবার ক্রাইম সিন্ডিকেটে কাজ করে এসেছে, ফলে সেখানকার অন্ধকার জগতের কাজকর্ম সম্পর্কে সে ভালোভাবেই অবগত ছিল। অভিযুক্ত রবিকুমার ফাঁদ পেতে তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে এই পাচারচক্র চালাচ্ছিল। বর্তমানে তিন জনকেই হেফাজতে নিয়ে রাজস্থানে ফিরিয়েছে পুলিশ, যেখানে জেরা করে এই আন্তর্জাতিক চক্রের বাকি মাথার সন্ধান চালানো হচ্ছে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন