রামপুরহাট : প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মীয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল বীরভূমের রামপুরহাটে।
মঙ্গলবার দুপুরে রামপুরহাটের নিজ ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বৃষ্টি মুখোপাধ্যায় (৩৫) নামের এক যুবতীর দেহ। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে, এটা একটি আত্মহত্যার ঘটনা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত বৃষ্টি মুখোপাধ্যায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নিহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন এবং তার চিকিৎসাও চলছিল। কিন্তু ঠিক কী কারণে এমন চরম পথ বেছে নিলেন তিনি, তা নিয়ে দানা বাঁধছে একের পর এক প্রশ্ন ও রহস্য।
নিয়োগ দুর্নীতি ও বিতর্কিত চাকরি
ঘটনার তদন্তে নেমে উঠে আসছে একধিক পারিবারিক ও সামাজিক চাপের তথ্য। তৎকালীন শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২৩ সালের মার্চ মাসে প্রথম চর্চায় উঠে এসেছিলেন বৃষ্টি। অভিযোগ ওঠে, বোলপুর হাইস্কুলের তৃতীয় শ্রেণির কর্মী (গ্রুপ সি) পদে বেআইনি উপায়ে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল তাঁর। তৎকালীন আদালতে মামলা গড়ালে হাজার হাজার ওএমআর বাতিল হওয়া তালিকার সঙ্গে বছরখানেক আগে চাকরি খোয়ান বৃষ্টিও। এই ঘটনা তাঁর সামাজিক জীবনে বড়সড় আঘাত হানে। চাকরি হারানোর এই ঘটনা এবং তৎপরবর্তী আর্থিক জটিলতা তাঁর মানসিক চাপ অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছিল বলে সূত্রের খবর।
ব্যক্তিগত টানাপোড়েন ও গভীর অবসাদ
চাকরি খোয়ানোর পর থেকেই বৈবাহিক জীবনেও তীব্র অশান্তি শুরু হয় বৃষ্টির। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় বেশ কয়েক মাস ধরে এক সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে রামপুরহাটে বাপের বাড়িতেই বসবাস করছিলেন তিনি। বর্তমানে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বিচ্ছেদের (ডিভোর্স) আইনি লড়াই চলছিল। পারিবারিক সূত্রের দাবি, একদিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে তৈরি হওয়া বিতর্ক, আর অন্যদিকে ব্যক্তিগত বৈবাহিক জীবনের চরম জটিলতা, এই দুইয়ের টানাপোড়েনে গত চার-পাঁচ বছর ধরে গভীর মানসিক বিষাদে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
তদন্তে পুলিশ
মঙ্গলবার দুপুরে দীর্ঘক্ষণ সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘরের দরজা খুলে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রামপুরহাট থানার পুলিশ। পুলিশি উপস্থিতিতে দেহ নামিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এটাকে আত্মহত্যার ঘটনা মনে হলেও, এর নেপথ্যে অন্য কোনো প্ররোচনা কিংবা রহস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পারিবারিক মানসিক অবসাদ নাকি আইনি জটিলতা, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় তদন্তকারীরা।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন